শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

তাড়াইলে গরুর হাটের ইজারা নিয়ে প্রশাসনের কারসাজি কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

নজরুল ইসলাম খায়রুল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে উপজেলা প্রশাসনে কারসাজির কারণে কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো সরকার। অভিযোগে প্রকাশ দীর্ঘ ৮/১০ বৎসর যাবৎ তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা বাজারে প্রতি ঈদ উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে গরুর হাট বসে আসছে। প্রতি বছরই উক্ত হাট থেকে প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রায় ৫/৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং উক্ত টাকার ভাগবাটুয়ারা নিয়ে প্রতিবছরই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বিভিন্ন সালিশ দরবারের ঘটনা ঘটে। চলতি বছর ঈদের গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ও কয়েক লক্ষ টাকা সরকার রাজস্ব হারানোর বিষয়টি লিখিতভাবে গত ২৬ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর তালজাঙ্গা গ্রামের মোঃ মিনাল মাতিন অভিযোগ করে। অভিযোগ পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোমেনা আক্তার গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে স্মারক নং- ৫০৫ মূলে একটি নোটিশে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার, কিশোরগঞ্জকে সরকারি হাট-বাজার সমূহের ব্যবস্থাপনা, ইজারা পদ্ধতি এবং উহা হইতে প্রাপ্ত আয় বন্টন নীতিমালা ২০১১ এর ১০.২ নং অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত চিঠি দেয়। কিন্তু উক্ত চিঠিকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় উক্ত হাটের প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা সরকারী রাজস্বের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে দেশের বাহিরে থাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্ন পূর্ণা দেবী জানান, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশসাক কার্যালয় থেকে ইজারা এনে গরুর হাট বসিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ইজারা সম্পর্কিত কোন চিঠি আমি পাইনি। আমাকে মৌখিকভাবে তারা জানিয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেল প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোমেনা আক্তারের চিঠিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুর হাট শুরু হওয়ার পর উক্ত চিঠি পেয়েছি। তাই কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। জেলা প্রশাসকের ইজারার চিঠি না পেয়ে কেন হাট বসানোর অনুমোদন দিলেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ের পর চিঠিটি আমার হাতে আসবে। তালজাঙ্গা গরুর হাটের ইজারাদার নূরুল হক ও তার সহযোগী রাজন বলেন, আমরা প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ হাট বাজার ডেকে আনি। এভাবেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গরুর হাট চালাচ্ছি। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ গত মাসে তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্ন পূর্ণা দেবী এর নিকট বাজার ইজারা আনার জন্য ২ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তাকে ফিরিয়ে দেন এবং সরকারিভাবে উক্ত গরুর হাটের বিষয়ে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে বাঁশহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির একটি সূত্র জানায়, উক্ত মাঠটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে। কিন্তু সরকার বা উক্ত প্রতিষ্ঠান তা থেকে কিছুই পায় না। আমরা বিভিন্ন সময় সরকারের রাজস্বের বিষয়টি বিভিন্ন মিটিংয়ে উপস্থাপন করলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোমেনা আক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আবেদ হোসেন এর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সরকারের প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত করার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category

সম্পাদকঃ শ্রী জগদীশ চন্দ্র সরকার

আজকের পত্রিকা


Theme Created By ThemesDealer.Com