| |

ধর্মপাশায় দলীয় নির্দেশনা না মেনে আ.লীগের দুই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন এক আ.লীগ নেতা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
আগামী ৪জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্দেশনা না মেনে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও ধর্মপাশা সদর এই দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুজন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ওই দুটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী, ওই দুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোননয় পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী। একই ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদের আপন চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম আহম্মেদ। গত সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা গ্রামে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম আহমেদের পক্ষে ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে ওই গ্রামে নির্বাচনী পথ সভার আয়োজন করা হয়। এই পথ সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘোড়া প্রতীকে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ফরহাদ আহমেদ। একই ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের ছেলে মোহিত লাল তালুকদার মুন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহিত লাল তালুকদারের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ওই বাজারে নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘোড়া প্রতীকে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ আহমেদের কঠোর সমালোচনা ও এখানে নৌকা প্রতীক বিক্রি হয়ে গেছেও বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সšাÍন । পারিবারিক ভাবেই আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত । সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি ও তাঁর বাবা বিগত সংসদ ও গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। এই ইউনিয়ন্ েআওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী সিলেকশনে ভুল হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের মুল ধারাকে ঠিকিয়ে রাখতে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্র্প্তা সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের ছেলে মোহিত লাল তালুকদারের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছি এবং ওই পথসভায় ঘোড়া প্রতীকে ভোট চেয়ে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছি। ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কেন নির্বাচনে কাজ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ্ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, উপজেল্ াআওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ আমাদের ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহিত লাল তালুকদার মুনের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে গোলকপুর বাজারে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ আহমেদের তীব্র সমালোচনা ও এই ইউনিয়নে নৌকার প্রতীক বিক্রি হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন। এতে করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আলমগীর কবীর জানান, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান বলেন, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নৌকার বিরোধিতা করা মানেই সভানেত্রীর বিরোধিতা করা। তাই ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যদি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রমান মেলে তাহলে ওই নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।