| |

মুক্তাগাছায় প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর ও কেন্দ্র অবরোধ করায় ৫ শতাধিক ব্যাক্তির নামে পুলিশের ৫ মামলা

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি : শনিবার রাতে ভোট গণণা শেষে কেন্দ্র অবরোধ করে প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর, ও বিভিন্ন ইউনিয়নে গোলযোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে গতকাল রোববার ৫ মামলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের নামে পুলিশ ৫টি মামলা দায়ের করেছেন। পৃথক পৃথক ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিজিবি ও পুলিশ ১১৭ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। পুলিশের ৫ মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে কয়েকটি গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের মহেষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফেরার সময় ওই এলাকার মেম্বার প্রার্থী বাবু সম্রাট ও কর্মী-সমর্থকরা ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোশাররফ হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে কেন্দ্রটি অবরোধ করে রাখে। এ খবর পেয়ে ওই দিন রাত ৯টায় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ওই কেন্দ্রে ঢুকে ৭৮ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্যদের উদ্ধার করে। আহত প্রিজাডিং অফিসার মোশাররফ হোসেনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জাল ভোট ও গোলযোগ সৃষ্টি করার সময় একই ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪ রাউন্ড, চন্দনিআটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২১ রাউন্ড, খেরুয়াজানী ইউনিয়নের সৈয়দগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯ রাউন্ড, লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ রাউন্ড ও দুল্লা ইউনিয়নের বিন্নাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে।
এ সব ঘটনায় ৫ মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে পাঁচ গ্রামের অজ্ঞাত আরো ৬৩৫ জনের নামে মুক্তাগাছা থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। এতে মহেষপুর, কমলাপুর, চন্দনিআটা, সৈয়দগ্রাম ও বিন্নাকুঁড়ি গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ ছাড়া বন্দগোয়ালিয়া, ফকিরগঞ্জ বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় ভোট গণণা শেষে বিক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি আবু মোঃ ফজলুল করিম সমকালকে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর, কেন্দ্র অবরোধ ও গোলযোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে পাঁচ গ্রামের ২০ জনসহ ৫ শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।