| |

নেত্রকোনায় অভ্যন্তরীন সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ ! চরমে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ…

সৌমিন খেলন : সড়ক ব্যবহার নিয়ে বাস ও সিএসজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে নেত্রকোনায় অভ্যন্তরীন সড়কগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে যাত্রীবাহী যান চলাচল। জেলায় রোববার (৫ জুন) সকাল থেকে বাস মালিক-শ্রমিকদের ডাকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দূর্ভোগে পড়ে যাত্রী সাধারণ। বাসচালক-শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে তারা সিএনজি এবং ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সাসহ সকল ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেন। মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দার যাত্রী দিলরুবা খানম, তাহেরা বেগম, পল্লব চক্রবর্তী বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের সমস্যার ঘানি যাত্রীরা কেন টানবে ? ভোরে ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় এসে বাসের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর ১টায়ও যাওয়ার কোন ব্যবস্থা হয়নি। আমাদের কি অপরাধ ? মদন ও কেন্দুয়ার যাত্রী অপূর্ব শ্রীদত্ত, মৌসুমী পাল, রাজ আলী বলেন, বাবা রে এই গরমের মধ্যে ৩ ঘন্টা ধইরা দাড়াইয়া আছি। অহনো বাসের কোন খবর নাই। আজকে কেমনে যে বাড়িত যাইয়াম আল্লাই জানে। আমরার তো টেহাই দেওন, কিন্তু কেডা আমরারে পৌঁছাইয়া দিব আর কেডা টেহা নিব এইটা লইয়া কাইজ্জা। আমরা আছি মহাবিপদো।
নেত্রকোনা জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চলাচলের কারনে বাস মালিক, চালক ও শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে পরছেন। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সব সড়কে বাস চলাচল করবে সেই সব সড়ক দিয়ে সিএনজি কিংবা অটোরিক্সা চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যদি চলাচল করতে হয় প্রাইভেট ভাবে বিকল্প পথে চলতে হবে। আর সেই সিদ্ধান্তে তারা যদি একমত না হয় তবে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন ওই শ্রমিকনেতা। জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল শেখ জানান, বাসচালক ও শ্রমিকরা অটোরিক্সা চালকদের উপর অহেতুক আক্রমণ চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সিএনজিসহ চালককে দীর্ঘসময় আটাকে রেখে লাঞ্চিত করছে তারা। নেত্রকোনা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বজলুর রহমবিভিন্ন সময় ইস্যু তৈরি করে সিএনজিচালকরা বাসচালক ও হেলপারদের উপর হামলা চালিয়ে গাড়িতে লুটপাটও করেছে। নেত্রকোনা জেলা অটোরিক্সা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আহমেদ বলেন, দ্বন্দ্ব রয়েছে বাস ও সিএনজি চালিত চালক-শ্রমিকদের মধ্যে। কিন্তু বাস শ্রমিকরা বিনাকারণে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চালকেদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর চালাচ্ছে কেন! অটোরিক্সা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় থেকে সড়ক ব্যবহার পারমিশন নিয়ে টেক্স দিয়ে সড়কে চলাচল করে। তারপরও অটোচালকদের উপর হামলা আর অত্যাচার কেন ? বাস শ্রমিকদের এ ধরনের কর্মকান্ডের অবসান চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে তিনি বিশৃঙ্খলাকারীদের শাস্তির প্রার্থনা ও নির্বিঘেœ সড়ক ব্যবহারের দাবি জানান। এদিকে বাস ও সিএনজি উভয় পক্ষের শ্রমিক নেতারা দাবি করে এ ব্যপারে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে সমস্যা বা দাবির কথা জানিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হবে। জেলা প্রশাসন থেকে কার্যকরী কোন সিদ্ধান্ত না এলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলবে যোগ করেন জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। জেলা প্রশাসক ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।