| |

সততা-নিষ্ঠায় নেত্রকোনায় একবছর পূর্ণ করেছেনএসপি জয়দেব চৌধুরী

সৌমিন খেলন : সততা-নিষ্ঠা ও বিচক্ষনতায় কর্মযজ্ঞ নেত্রকোনায় একবছর পূর্ণ করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী। তিনি (১৬ জুন, ২০১৫) নেত্রকোনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে যোগদান করেন। তারপর পুলিশ সুপারের কার্যালয় বা ভবন চাকচিক্য থেকে শুরু করে একে একে পাল্টে যেতে শুরু করে জেলা পুলিশের গতি ও সার্বিক কার্যক্রম। জেলাবাসীর ভাষ্যমতে, একটি সময় ছিল যখন দিনদুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে দাড়িয়েও কার্যলয়ের খোঁজ করতেহয়েছে। কিন্তু এসপি জয়দেব চৌধুরী আসার পর সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এখন রাতের অন্ধকারে নেত্রকোনা শাহ্ সুলতান বা মদন সড়কে দূর থেকে দাড়িয়েও যে কেউ দৃষ্টি নন্দিত সাইনবোর্ড দেখে পুলিশ সুপার কার্যালয় চিনতে পারে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় কার্যালয়ের সামনের বাগানটি এখন নিঃসন্দেহে প্রশংশার দাবিদার। বাগানটির ভেতর থেকে শুরু করে বাহিরে চারিদেকে বসানো হয়েছে রং বেরঙের গার্ডেন লাইট। অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশকে পরবাসে পাঠিয়ে রাতে বাগানটি পথিকের গতিরোধ করে এখন। শৈল্পিক চিন্তাধারায় মনের মাধুরী মিশিয়ে কার্যালয়টি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে পুলিশ সুপার জেলাবাসীর কাছে একজন শিল্প নির্দেশক হিসেবেই বেশ পরিচিত। অনাকাঙ্খিত ঘটনা বা কার্যালয়ের ভিতরকার অপরাধ ও অপরাধীকে সনাক্ত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে তিনি কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জেলাবাসীর দাবি। তবে এ ব্যাপারে আরও একটি বিষয় যোগ করে স্বদেশ সংবাদে একান্ত আলাপচারিতায় পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, ‘আইনের সহায়তা চাইতে এসে কোন ব্যক্তি পুলিশের সাহায্য না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে কি না সে ব্যাপারেও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে’। সাধারণ মানুষ এখন নির্বিঘেœ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে যখন তখন ঢুকে যেতে পারেন কার্যালয়ের ভেতর ! পুলিশ সুপারের সহায়তায় তারা খুঁজে নিতে পারেন সমস্যার সমাধান। জেলায় মাদক, জুয়া ও রাজনৈতিক অপতৎপরতাসহ অপরাধমূলক সকল ধরনের কর্মকান্ড প্রতিহত করতে সদা তৎপর জয়দেব চৌধুরী। নেত্রকোনায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনে এক বছরে নিজের ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে জানতে চাইলে জয়দেব চৌধুরী বলেন, সহজ-সরল মানুষ আর প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত দিক দিয়ে নেত্রকোনা চমৎকার এক জেলা। ভালো লাগা মন্দ লাগার প্রশ্নে মন্দ লাগার মতো কিছু পাইনি। সেক্ষেত্রে ভালোটাই বলতে হয় যেহেতু তার পরিমান বেশি। নেত্রকোনায় যোগদানের পর থেকেই জেলাবাসীর নিঃস্বার্থ ভালবাসা পেয়েছি যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মানুষকে মনে হয় এক একজন কবি, শিল্পী। নেত্রকোনার মানুষ আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল বলেও দাবি করেন এসপি জয়দেব চৌধুরী। গণমাধ্যম নিয়ে অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেত্রকোনার সাংবাদিকবৃন্দ তাদের দ্বায়িত্বের প্রতি অত্যন্ত সচেতন এবং সংবাদ প্রকাশে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখে। সংবাদ মাধ্যমে একটি ঘটনাকে তাঁরা যতœ সহকারে অল্প কথায় খুব সহজেই তুলে ধরতে পারে। নেত্রকোনার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে জেলাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে এসপি জয়দেব চৌধুরী বলেন, কমিনিউটি পুলিশের কার্যক্রমকে গতিশীল করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতন মুক্ত একটি জেলা উপহার দিতে চাই।