| |

বাল্যবিয়ে মুক্ত হল ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা

আবুল কালাম আজাদ : সততা নিষ্ঠা ও কঠোর শ্রম যেমন বয়ে আনতে পারে সাফল্য। তেমনি এর বাস্তব দৃষ্ঠান্ত ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আজ বাল্যবিয়ে মুক্ত। নারী উন্নয়নে অন্যতম বাধাঁ ছিল এ উপজেলা বাল্যবিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাল্যবিয়ে চলমান থাকায় সামাজিক ব্যাধিটি মহামারি আকার ধারন করেছিল। বাল্যবিয়ে অনিবার্য পরিণতি নারীদের শিক্ষার হার হ্রাস পাওয়া অকাল মাতৃত্ব যৌতুক জনিত নারী নির্যাতন। “রূপকল্প ২০১১” কে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশকে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অন্যতম হচ্ছে নারী উন্নয়ন । সেই উন্নয়ন সুদূরপরাহত থেকে যাবে যদি বাল্য বিয়ের মতো সমাজিক ব্যাধিটি সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব না হয়। দীর্ঘদিনের চলমান এ সামাজিক ব্যাধিটি প্রতিরোধ করারজন্য প্রশাসনের পক্ষে উপজেরা নির্বাহী অফিসার রাজীব কুমার সরকার জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকীর অনুপ্রেরনায় উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইসলামের অক্লান্ত শ্রমেই এর সফলতা এসেছে বাল্য বিয়ে মুক্ত করতে এ উপজেলাকে । বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় সভায় বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করান জেলা প্রশাসক ও ইউ এন ও । ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস থেকেই ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করার কর্ম পরিকল্পনার কাজ শুরু করেন ইউএনও রাজীব কুমার সরকার। প্রথম ধাপেই তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে শুরু করেন উঠান বৈঠক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবক সহ বিভিন্ন সমজিদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিকাহ রেজিষ্ঠার কাজী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব চেযারম্যান মেম্বার মেয়র কাউনন্সিলরদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা করেন। সারা উপজেলায় মাইকিং পোষ্টার ও লিফলেট বিতরন সচেতনা মূলক কাজের পাশাপাশি শুরু করেন আইন গত পদক্ষেপ। গ্রাম গঞ্জে বাল্যবিয়ে খবর পাওয়া মাত্রই নেয়া হয় কঠোর পদক্ষেপ । ইতো মধ্যে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে ইউএনও রাজীব কুমার সরকার ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে দু’জন কাজী বর কনের অবিভাবক ইউপি সদস্য সহ ২০ জনকে অর্থ দন্ড ও কারাদন্ডে দন্ডিত করেছেন। উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ইতো মধ্যে ইউএনও রাজীব কুমার সরকারের প্রচেষ্টায় অর্ধশত বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়। বর্তমানে এ উপজেলায় বাল্যবিয়ে হওয়ার মতো কোন খবর পাওয়া যায়নি। ঈশ্বরগঞ্জকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও রাজীব কুমার সরকার জানান এখন আর ঈশ্বরগঞ্জে বাল্য বিয়ে হচ্ছে না এমন কি হবেও না। কারন সারা উপজেলাবাসী আজ জাগ্রত গ্রামের মানুষ এখন সচেতন। জনগন বুঝতে পেরেছে বাল্যবিয়ের অভিশাপ কত ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর। তিনি আরও জানান শীগ্রই এ উপজেলাটি সরকারীভাবে বাল্যবিয়ে মুক্ত হওয়ার স্বীকৃতি পাবে।