| |

কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ মিটারটির সন্ধান মিলেছে ২০ বছর পর!

মহিউদ্দিন সরকার : ২০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মিটারটি। তবে এটি কোথায় তা জানত না পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে ৪০ হাজার ইউনিট। বর্তমান হিসাবে বিল বকেয়া পড়েছে চার লাখ টাকার বেশি। অধিক বিল আসায় টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। মিটারের সন্ধানে নামে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
মিটারটি রয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে। বিদ্যুতের বকেয়া বিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসার পর সেটির খোঁজ মেলে।
উপজেলা পরিষদ ও পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ও আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে পল্লী বিদ্যুতের কাছে ১৭ লাখ টাকার বিল বকেয়া পড়ে। এ বিষয়ে কেন্দুয়ায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে চিঠি আসে। এরপর ইউএনও মুহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম এত বিল বকেয়া থাকার কারণ জানতে চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চান। তা ছাড়া তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম, কারিগরি) বাবুল হোসেন ও জেলা সদরের দায়িত্বে থাকা সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মজিবুর রহমানসহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা কেন্দুয়ায় আসেন। এ সময় তাঁরা উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকা ঘুরে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি পরিদর্শনের পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ইউএনওর কার্যালয়ের পেছনে একটি বৈদ্যুতিক মিটারের খোঁজ পান, যেটি ১৯৯৬ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে এলেও স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নজরে ছিল না। ফলে সেটির কোনো বিলও করা হচ্ছিল না।
এ সময় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের কাছে উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকার কেন্দ্রীয় মিটারের ব্যবহৃত ইউনিটের রিডিংয়ের সঙ্গে এর অধীন অন্তত ৪৫টি ‘সাবমিটারের’ মোট রিডিংয়েরও গড়মিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। তাঁরা জানান, নতুন সাবমিটারটি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় মিটারের সঙ্গে থাকা সাবমিটারগুলোর ব্যবহৃত ইউনিটের রিডিংয়ের গড়মিলও অনেক কমে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লী বিদ্যুতের কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘অন্তত ২০ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা মিটারটি সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। বর্তমান রিডিং অনুযায়ী ওই মিটারে ৪০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। সে হিসাবে বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার লক্ষাধিক টাকা।’ জানতে চাইলে কেন্দুয়ার ইউএনও মুহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের আগামী মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনার পর এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন সন্ধান পাওয়া মিটারের বকেয়া চার লাখ ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তিনি ক্ষোভে প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো জায়গার একটি মিটার সম্পর্কে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু জানবে না, এটা হতে পারে না। তাদের সঠিক নজরদারির অভাবে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।