| |

শামীমার প্রতিবন্ধি স্কুলটি নিরক্ষরতা দূর করছে

শেখ আজমল হুদা মাদানী : ওদের কারো বয়স ৭ কারো ১২ আবার কারো ১৬/১৭, এমনকি কেউ আরো বেশী বয়সের। কেউ বাক, কেউ দৃষ্টি, কেউ শারীরিক আবার কেউ বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। সবাই একসাথে বসে শৃঙ্খলভাবে পড়ালেখা শিখছে। ওরা সবাই দুঃস্থ, গরীব ও সংখ্যা লঘু পরিবারের প্রতিবন্ধি সন্তান। এটি ময়মনসিংহ সদরের ১৯ নং ওয়ার্ড বলাশপুরে। ময়মনসিংহ জেলা জিপি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দক্ষিনে পলিটেকনিক্যাল কলেজের পিছনে প্রতিবন্ধিদের স্কুল। স্কুল বলতে একটি ভাড়া করা দুই সাটার বিশিষ্ট দোকান ঘর। একটি টেবিল ও একটি চেয়ার। এ পর্যন্ত ৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। খালি ফ্লুরে বসে ১৫/২০জন ছেলে মেয়ে শিক্ষকের কথা শুনছে মনোযোগ দিয়ে। এই প্রতিনিধি যাওয়া মাত্র আ-ও-হ বলতে বলতে আমার ক্যামেরার দিকে হাত দিচ্ছে। এর মাঝে সঞ্চিতা রানী দে (৪) এর মাতা কান্না স্বরে বলছে আমার দুটি সন্তান প্রতিবন্ধি স্বামী তপন চন্দ্র দে আমাকে দেখতে পারে না, আমি এখন কোথায় যাব। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবেক কমিশনার শামীমা আক্তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিচ্ছেন তাকে। শামীমা আক্তারের সাথে আলাপ করে জানা গেল স্কুলটি ৪ মাস পূর্বে ক্ষুদ্র ও ভূখানাঙ্গা মেহনতী নারী কল্যাণ সংস্থ’ার উদ্যোগে চালু হয়। শিক্ষক তিনি নিজেই। সে বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিবন্ধি শিশুদের শিক্ষাদান করে আসছেন। নিজস্ব ভ্যানগাড়ী না থাকায় বাকী ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারে না। এখন পর্যন্ত সরকারী বা বেসরকারী কোন সাহায্য বা অনুদান পাওয়া যায়নি। একদিন হয়ত সরকারী বেসরকারী ও কোন দাতা ব্যক্তি বা সংস্থার সুনজরে আসবে তাদের এই মহতি কার্যক্রম এবং অটিজম/প্রতিবন্ধি স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হবে, সে আশায় স্বপ্ন দেখছেন তারা। শিশুরা বসবে বেঞ্চে, স্কুলের নিজস্ব জমিতে পাকা ঘর হবে, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো হবে। সমাজের বিত্তবান দানশীল মানুষ এবং সরকারী বেসরকারী দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে ময়মনসিংহ জেলায় এ প্রতিবন্ধি স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হবে। শামীমার প্রতিবন্ধি নিরক্ষরতা দূর করবে ও হাসি ফুটাবে শিশুদেরকে। পিতামাতার মুখে এমনি প্রত্যাশা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার।