| |

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ। আর এর স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে জাতিসংঘসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যে (এমডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। শুধু সফলই হয়নি এমডিজির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি দারিদ্র্যের হার কমেছে বাংলাদেশে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) পর এবার জাতিসংঘ প্রণয়ন করেছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)। এসডিজিতে ১৭টি এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে- দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, গুণগত শিক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য বিধান, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শোভন কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, অসমতা দূরীকরণ, স্থিতিশীল নগর ও সম্প্রদায়, দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজজীব, স্থলজীব, শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং লক্ষ্য পূরণে অংশীদারিত্ব।
জাতিসংঘের মহাসচিব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিএস) প্রসঙ্গে বলেছেন, এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্ব একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হবে। বলাই বাহুল্য পৃথিবীব্যাপী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সাম্য প্রতিষ্ঠা মানবসভ্যতার উষালগ্নের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সার্বজনীন কর্মপ্রণোদনা এবং উদ্যম উদ্যোগে জাতিসংঘ ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বের ১৯৩টি দেশ সম্মত হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে।
সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ-বঞ্চনাহীন এক দেশের স্বপ্ন ছিল আমাদের বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম চেতনা। সেই চেতনারই পরিপূরক কর্মসূচি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এসডিজি সামিট অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে। তাতে পৃথিবীর ১৫০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, পৃথিবীর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের; সেই পরিবর্তন সফল হবে যদি এই উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে নিবিড় ও ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট থাকে সাধারণ মানুষ। আর উন্নয়নের সঙ্গে জনমানুষের সম্পৃক্ততার এক অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের মানুষ সব উন্নয়নের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ওতপ্রোত। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এবং সহযোগী দেশগুলোও শেয়ার করবে সে অভিজ্ঞতা-পৃথিবীর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথযাত্রায়।