| |

ধর্মনিরপেক্ষ নেপালের যাত্রা শুরু নতুন সংবিধান কার্যকর

ইন্টারনেট: ধর্মনিরপেক্ষ এবং পূর্ণ গণতন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করলো সার্কভুক্ত রাষ্ট্র নেপাল। গত রোববার থেকে দেশটিতে নতুন সংবিধান কার্যকর হয়েছে। নতুন সংবিধানে নেপালে ধর্মীয় এবং সংস্কৃতির স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এই ধারা বিশ্বের অনেক সংবিধানে আছে এবং সেই অনুযায়ী মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে। খবর বিবিসি ও এনডিটিভি’র
সাতটি প্রদেশে ভাগ হবে হিমালয়ের পাদদেশের এই রাষ্ট্রটি। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে কিছু দল বিরোধিতা করে আসছে। তারা চাচ্ছে নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবেই রাখতে। দেশটিতে খ্রিস্টানসহ নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ আছে। এশিয়ার কোনো দেশ তার সংবিধানে এই প্রথম নারী-পুরুষের সমকামীতা, উভলিঙ্গ এবং রুপান্তরকামীতাকে সমর্থন দিল। আদালত যৌন এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারবে না। নেপালের জাতীয় ফুল রোডেনড্রন এবং জাতীয় পশু গরু।
সংবিধান নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর বিতর্ক করেছে। সংখ্যালঘু কিছু কিছু সম্প্রদায় মনে করছে, সাতটি প্রদেশে ভাগ করার ফলে তারা বৈষম্যের শিকার হবে। দেশটির দক্ষিণের থারু ও মাধেসি জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে অচল করে দিয়েছে ওই এলাকা। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভের কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার একজন উপদেষ্টা প্রতীক প্রধান অবশ্য বলেছেন নতুন সংবিধান হল নেপালের মানুষের বহু বছরের সংগ্রামের ফল। এদিকে ২৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ নেপাল, গত এপ্রিলে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলিয়ে উঠতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন নেপালবাসী।