| |

গ্রিসে নির্বাচনে সিপ্রাসের দল সিরিজার জয়

ইন্টারনেট : গ্রিসের সাধারণ নির্বাচনে অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের দল সিরিজা পার্টি জয়ী হয়েছে। এই রায়কে জনগণের বিজয় বলে অভিহিত করেছেন দলটির নেতা অ্যালেক্সিস সিপ্রাস।
গতকাল সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রোববার ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল আসার আগেই রক্ষণশীল নিউ ডেমোক্রেসি দল পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরিজা পার্টি ৩৫ শতাংশ, নিউ ডেমোক্রেসি ২৮ শতাংশ, ডানপন্থী গোল্ডেন ডাউন দল ৭ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে।
নির্বাচনের এই ফলাফল অনুসারে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে সিরিজা। তবে ইনডিপেনডেন্ট গ্রিকস দল জোট সরকারে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
আগস্টে গ্রিসের পার্লামেন্টে সিরিজা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সবশেষ এই নির্বাচন দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত ছয় বছরের মধ্যে দেশটিতে পাঁচটি নির্বাচন হলো।
ভোটে জিতলেও সিপ্রাসের দল গতবারের চেয়ে চারটি আসন কম পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পাওয়া ফলের ধারা না বদলালে  ৩০০ আসনের গ্রিক পার্লামেন্টে ১৪৫টি আসন পেতে যাচ্ছে সিরিজা পার্টি।
গত জানুয়ারির নির্বাচনে যেখানে ৬৩ শতাংশ গ্রিক ভোট দিয়েছিলেন, এবার সেখানে বাক্সে পড়েছে ৫৫ শতাংশ ভোট।
ঋণজর্জরিত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ইউরো জোনের কঠিন ‘বেইল আউট’ শর্ত মেনে নিজ দলের বিরোধিতার মুখে পড়ে ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় নতুন নির্বাচন দেন ‘স্পষ্টভাষী’ সিপ্রাস।
জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সিরিজা পার্টি সরকার গঠন করার পর জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন বেইলআউট চুক্তি ও কৃচ্ছ্রতার পরিকল্পনা গ্রহণ করা নিয়ে গণভোটে অংশ নেয় গ্রিসের জনগণ।
কিন্তু নিজের দলে সমালোচনার মুখে নির্বাচনের ডাক দিয়ে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস।
দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আবারও সেই সিপ্রাসের ওপরই আস্থা রাখল গ্রিসের জনগণ।
স্পষ্ট জয়ের সুবাতাস পাওয়ার পর এথেন্স স্কোয়ারে সমর্থকদের উদ্দেশে এক বক্তৃতায় সিপ্রাস বলেন, “শক্তি ও সম্মানের দিক থেকে ইউরোপ, গ্রিস ও গ্রিসের মানুষ এখন সমান। আগামী পুরো চার বছর আমরা একসাথে লড়াই করব।”
সিপ্রাস ৮৫ বিলিয়ন ইউরো বেইল আউট নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে না বললেও সিরিজা পার্টির প্রচারে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।
সিপ্রাস বলেন, “আমাদের সামনে কঠিন পথ, কিন্তু আমাদের পায়ের তলায় শক্ত ভিতও আছে। আমরা জানি, কোথায় পা ফেলতে হবে। আমাদের সম্ভাবনা আছে। জাদুকরীভাবে সঙ্কট থেকে উত্তরণ হবে না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হবে।”
নতুন সরকার গঠনের পর সিপ্রাসের প্রথম কাজ হবে পরবর্তী বেইল আউটের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের সমর্থন আদায় করা। আগামী মাসে এই বেইল আউট পর্যালোচনা করার কথা।
গ্রিসের সঙ্কট মোকাবেলায় এরই মধ্যে নতুন সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করার ইচ্ছে জানিয়েছেন ডাচ অর্থমন্ত্রী ইয়েরন ডাইসেব্লুম।
তবে ইউরোপের জন্য নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দেওয়া শরণার্থীর ঢেউ সামলানোর কাজটিও ভালোভাবে করতে হবে সিপ্রাসকে। কারণ সাগরভাসা হাজার হাজার মানুষের ইউরোপে ঢোকার অনেকগুলো পথের একটি এই গ্রিস।