| |

ডি ভিলিয়ার্সের মতে স্মিথের অবসরের পর ‘কঠিন সময়’ পার করছে দক্ষিণ আফ্রিকা

স্পোর্টস ডেস্ক: তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের অবসরের পর পরিবর্তনকালীন সময়টাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন একটি সময়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কেপ টাউনে ২০১৪ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট চলাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন স্মিথ।
দশ বছরের ক্যারিয়ারে ১০৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলা স্মিথ ২০১৪ সালের মার্চে কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট চলাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন।
স্মিথের আগে ২০১৩ সালের শেষ দিকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন কিংবদন্তী অলরাউন্ডার জক ক্যালিস। ঠিক তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের জুলাই মাসে চোখে ইনজুরির কারণে অবসর নিতে বাধ্য হন উইকেটরক্ষক মার্ক বাউচার।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘জক ক্যালিস, গ্রায়েম ও মার্ক এবং তার আগে শন পোলক, মাখায়া এনটিনি এবং আরো কিছু বড় খেলোয়াড় অবসর নেয়ায় এটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খুবই কঠিন একটা সময় ছিল।
‘তবে বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে স্মিথের বিদায় নেয়া। কারণ তিনি সুনির্দিস্ট একটি সংস্কৃতি শুরু করেছিলেন যে জন্য আমরা গর্বিত এবং আমরা যে জন্য ক্রিকেট খেলি।
‘তবে এটা বলতে হয় যে, তার অবসরের পর দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় দলের দায়িত্ব নিয়েছে এবং আমাদেরকে পুনরায় ভিন্নধর্মী কিছু শুরু করতে হয়েছে।’
সংস্কৃতির প্রতি কিভাবে সৎ থাকা যায় সেটা স্মিথ শিখিয়েছিলেন এবং এ পথে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন প্রজন্মকে পরিচালিত করাটা বর্তমান তিন অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স (ওডিআই), হাশিম আমলা (টেস্ট) ও ফাফ ডু প্লেসিসের (টি-২০) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘গ্রায়েমের নেতৃত্বেও ধরন ছিল বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ভিন্নধর্মী।’
‘একটা সময় ছিল গ্রায়েম কি করতেন আমরা তার উপড় নির্ভরশীল ছিলাম। তবে কয়েকমাস পর আমরা অনুধাবন করলাম যে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু করা দরকার।’
মাত্র দেড় বছরের মধ্যে স্মিথ, বাউচার এবং ক্যালিসকে হারালেও দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলটি এখন তারকা খেলোয়াড়ের সমৃদ্ধ। দলটিতে রয়েছে বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স, চার নম্বর আমলা। শীর্ষ টেস্ট বোলার ডেল স্টেইনের সঙ্গে আছেন ডু প্লেসিস, মরনে মরকেল, ভারনন ফিলান্ডার, ইমরান তাহির ও সিমন হার্মারের মত মেধাবী সকল খেলোয়াড়।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রাজত্ব হারানোর পর গত বছরের শেষ দিক থেকে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করেছে প্রোটিয়াসরা। বর্তমানে ১৯ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে তারা। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়েও তারা আছে তৃতীয় স্থানে।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি মনে করছি আমরা সত্যিকারভাবেই খুব ভাল করছি।’
‘গ্রায়েমের সৃষ্ট সংস্কৃতি এখনো দলে বিদ্যমান। তবে এই মুহূর্তে আমাদের কি করতে হবে সে বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী এসাইনমেন্ট অক্টোবর-নভেম্বরে উপমহাদেশে ভারত সফরে তিন টি-২০, পাঁচ ওয়ানডে এবং চার টেস্টের সিরিজ।