| |

সেই অপরিচিতা যুবতীর পরিচয় মিলেছে

শফিকুল ইসলাম মিন্টু : ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে বুকে প্লাষ্টিকের ফাইল জড়িয়ে ঘুরে বেড়ানো সেই অপিরচিতা মেয়েটির পরিচয় মিলেছে। মেয়েটির নাম মোজেদা খাতুন (৩৭)। সে তিন সন্তানের জননী। তার বাবার নাম মকবুল হোসেন। বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তগাছা উপজেলার গয়েসপুর গ্রামে। মঙ্গলবার বিকালে মোজেদাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে গৌরীপুর থানা পুলিশ।
এর আগে মোজেদা খাতুন গত দুই সপ্তাহ ধরে গৌরীপুর পৌর শহরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো। তাকে নিয়ে স্থানীয় মানুষের মাঝে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছিলো। রাতের বেলায় সে শহরের বিভিন্ন দোকান-পাটের বারান্দায় ঘুমাতো। প্রায় রাতেই উঠতি কিছু যুবক হায়েনাদের মতো তাড়া করতো। ফলে যে কোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকার ঘটনার শঙ্কা ছিলো। কিন্তু মেয়েটির বিষয় নিয়ে প্রশাসনেরও কোনো উদ্যোগ ছিলো না।
মোজেদাকে নিয়ে ‘কে এই যুবতী’ শিরোণামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে মেয়েটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সে পুলিশকে জানায়, তার বাড়ি মুক্তাগাছা। এবং সে বাড়ি ফিরতে চায়। পরে গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসাইন ঐদিন তাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে তুলে দেয়। কিন্তুু মেয়েটি বাড়ি না গিয়ে রোববার আবারো গৌরীপুর ফিরে আসলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে পুলিশ মেয়েটিকে শহরের মধ্যবাজার এলাকা থেকে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোজেদা খাতুনের বয়স (৩৭)। সে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতো। ২০ বছর আগে তার বিয়ে হয় একই গ্রামের ময়নাল হকের সাথে। এই দম্পতির সংসারে দুই মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে। ২/৩ বছর আগে মোজেদার বড় মেয়ে পালিয়ে অনত্র বিয়ে করে। এ ঘটনায় মোজেদা মানষিকভাবে আঘাত পায়। ধীরে ধীরে সে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এরপর তার স্বামী তাকে ছেড়ে অনত্র বিয়ে করে। সে দুই সন্তান নিয়ে মুক্তাগাছা বাবার বাড়িতেই থাকতো। মোজেদার দরিদ্র পরিবার তাকে সুস্থ্য করার জন্য সাধ্যমতো চিকিৎসা করালেও সে আর সুস্থ্য হয়ে উঠেনি।
মোজেদার বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তাঁর মেয়ে মোজদো মানষিক ভারসাম্যহীন। ঈদের ৪/৫ দিন আগে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর খোঁজ পাচ্ছিল না। সোমবার গৌরীপুর থানায় সে পুলিশ হেফাজতে আছে এমন খবর পেয়ে এখানে এসে তাকে শনাক্ত করে। এসময় তিনি গনমাধ্যম ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, মেয়েটির কাছ থেকে তার পরিবারের ঠিকানা সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে মেয়েটির বাবা গৌরীপুর থানায় এসে মোজেদাকে শনাক্ত করেন। এবং বাড়ি নিয়ে যান।