| |

ইসলামপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ত্রাণ অপ্রতুল উপজেলার সাথে ইউনিয়ন গুলির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ইসলামপুর সংবাদদাতা : জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে পানি বন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশআনীসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি দিনদিন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। রোববার গভীর রাতে নোয়ার পাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে ১০-১৫টি ঘরবাড়ি নদীতে ভেসে গেছে। দূর্গত হাজার হাজার মানুষ অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর শিংভাঙ্গা সড়ক এবং ইসলামপুর- গুঠাইল সড়ক তলিয়ে গিয়ে উপজেলার সাথে গুঠাইল বাজারের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হযে পড়েছে। ইসলামপুর উপজেলার পার্থর্শী কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, ইসলামপুর সদর, ইসলামপুর পৌরসভা এ সকল এলাকার মানুষ উঁচু স্থানে,বাঁধের উপর খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে। গৃহপালিত পশু , গরু, ছাগল হাঁস, মুরগি পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যমুনার তীরবর্তী কুলকান্দী, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধরী ও নোয়ারপাড়াসহ আটটি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৮৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। দূর্গত এলাকায় খাবার পানির ও গু খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চিনাডুলী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে কয়েক’শ কোটি টাকার যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উলিয়া বাজার এলাকা চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে।
এছাড়া ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অধিকাংশ গ্রাম বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর তীরবর্তী গোয়ালেরচর, গাইবান্ধ, চরগোয়ালিনী ও চরপুটিমারী ইউনিয়নেও বন্যা দেখা দিয়েছে।
চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে চিনাডুলী ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে সমান তালে। তার ইউনিয়নের সব গুলো গ্রাম নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত। পানির প্রচন্ড স্রোতে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়কের বলিয়াদহ (ডেবরাইপ্যাচ) বড় ব্রীজ। জরুরী ব্যবস্থা না নিলে ব্রীজ ধসে বৃহত্তর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসুত্রে জানাগেছে, বন্যা কবলিত এলাকায় হাইস্কুল,মাদরাসা,প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে । ৫টি বিদ্যালয় বন্যার্তরা আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করছেন বলে জানাগেছে।
উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান ও তার প্রতিনিধি গত দুইদিনে দূর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছে।
পিআইও মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান- বন্যা কবলিতদের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার ইতি মধ্যে বন্যা দুর্গত এলাকায় চেয়ারম্যান ও দায়িত্বরত কর্মকতাদের মাধ্যমে বিতরন চলছে।
এছাড়াও ইসলামপুরে যমুনা নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১১০ বান্ডিল ঢেউ টিন এবং প্রত্যেককে নগদ তিন হাজার করে টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
এ দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল জরুরী ভিক্তিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।