| |

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে চিন্তা করতে হবে তোমার জীবনকে গড়ে তুলবে নাকি বিপথে যাবে-ভিসি মোহীত উল আলম

রফিকুল ইসলাম শামীমঃ কবি নজরুল ইসলঅম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.মোহীত উল আলম বলেছেন-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভাবতে হবে যে তুমিই তোমার অভিভাবক,তাই অভিভাবক হিসেবে তোমাদের কে নিজে নিজেই চিন্তা করতে হবে তুমি তোমার জীবনকে ভাল ভাবে লেখাপড়া করে সুন্দর জীবন গড়ে তুলবে নাকি বিপথে যাবে তার সিদ্বান্ত এবং যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন তোমাকেই করতে হবে। পরিবারের গন্ডি পেরিয়ে যখন একজন ছেলে বা মেয়ে বাইরে বের হয় তখন তার অভিভাবক তার বিবেক। সিসিটিভির মাধ্যমে সবকিছু মনিটরিং করা সম্ভব নয়। তাই মানুষের বিবেকের সিসিটিভিকে জাগ্রত করতে হবে। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে, ধর্ম দিয়ে নয়। তাহলেই সংঘাত কমে যাবে। আর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যেক শিক্ষকই আসলে একেকজন মনোবিজ্ঞানী এবং অভিভাবক। গুলশান ও শোলাকিয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিশেষ করে পুলিশ ও র‌্যাবের সাহসি ভূমিকা এবং জঙ্গিবাদ দমনে আত্মত্যাগের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের সকলকেই সহায়তা করতে হবে। সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধ হলেই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আসলে জঙ্গিবাদ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এর সাথে সাম্প্রদায়িকতা,স্বাধীনতা বিরোধী এবং সরকার বিরোধী শক্তির যোগসূত্র আছে।
তিনি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান কালে এসব কথা বলেন। সৈয়দ মামুন রেজার পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন-ট্রেজারার প্রফেসর এএমএম শামসুর রহমান,অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড.আক্কাছ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নিয়াজী, র‌্যাব হেড কোম্পানী কমান্ডার জসিম উদ্দিন, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন, ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড.নজরুল ইসলাম,প্রক্টর প্রফেসর ড.মাহবুব হোসেন,বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাব্বির আহমেদ,সাধারন সম্পাদক আপেল মাহমুদ প্রমুখ। এর আগে ভিসি মোহীত উল আলমের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে জঙ্গীবাদ বিরোধী র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।
অতিরিক্ত ডিআইজি ড.আক্কাছ উদ্দিন বলেন -বাংলাদেশের আপাময় জন সাধারন আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছেন আর এদেশে জঙ্গীবাদ থাকতে পারবেনা,জঙ্গীবাদের মদদ দাতাদের এদেশে ঠাই হবেনা। দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি মহল তা বাধাগ্রস্থ করতে তৎপর রয়েছে। আমরা সকলে মিলে সেই ষড়যন্ত্রকে অবশ্যই প্রতিহত করে সামনে দিকে এগিয়ে যাবোই।
র‌্যাব হেড কোম্পানী কমান্ডার জসিম উদ্দিন বলেন-আপনারা যদি কোথাও জঙ্গীদের ক্লু পান কিংবা কোখাও জঙ্গীবাদের নমুনা দেখেন তাহলে তাৎক্ষনিক র‌্যাবকে জানাবেন আমরা জঙ্গীবাদের মূল উঠপাটনে কাজ করে যাচ্ছি।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন- আমাদের দেশে জঙ্গীবাদকে আর মাথাঝারা দিয়ে উঠতে দেয়া হবেনা। আমরা সম্মিলিত ভাবে জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করতে শুরু করেছি। রাজধানীর কল্যানপুরে আমাদের বড় একটি সার্কসেস হয়েছে। খুব বড় ধরনের নাশকতা করার আগেই আমরা আমাদের আইন শৃংখরা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পরিকল্পনা নস্যাত করে তাদের দমন করেছে।
ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান বলেন-জঙ্গীবাদের এই সাময়িক উথ্থানে কেন কোন কিছুতেই আমাদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। তখনও এ জাতি বিচলিত হয়নি কিংবা পিছপা হয়নি। কোন অপশক্তিই কখনই বাঙ্গালী জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি,ভবিষ্যতে ও দাবিয়ে রাখতে পারবেনা । আমাদের নেত্রী বাংলাদেশের সফল প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উনার প্রজ্ঞায় সব কিছুই আজ খোলাসা হয়ে আসছে জঙ্গীরা আর গর্ত থেকে বের হতে পারবেনা।