| |

মেসির পেনাল্টি মিসেও বার্সার বড় জয়

স্পোর্টস ডেস্ক : লিওনেল মেসি আবার পেনাল্টি মিস করলেও লেভান্তের বিপক্ষে বার্সেলোনার বড় জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। ৪-১ গোলে জিতেছে লা লিগার শিরোপাধারীরা।
রোববার রাতে কাম্প নউয়ে বার্সেলোনার দুটি গোল করেন মেসি। আর একটি করে করেন নেইমার ও মার্ক বারত্রা। লেভান্তের একমাত্র গোলটি ভিক্তরের।
লুইস সুয়ারেস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তারা না থাকলেও ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে বার্সেলোনা। পঞ্চম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারতো তারা। বল পায়ে বাঁদিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি, কিন্তু শট নিতে দেরি করে ফেলেন। বল বাড়ান ডান দিক দিয়ে ঢোকা নেইমারের উদ্দেশে, কিন্তু মাঝ পথে গোলরক্ষকের বাধা এড়াতে পারেননি।
পরের মিনিটেই মেসির দুর্দান্ত ক্রসে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পায় লুইস এনরিকের দল। গোলমুখে বলে শুধু একটা টোকার দরকার ছিল, কিন্তু পা লাগাতেই পারলেন না তরুণ মুনির এল হাদ্দাদি।
আক্রমণের পর আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত লেভান্তের রক্ষণ মেসি-নেইমারদের আটকাতে পারছিল না। কিন্তু ডি বক্সে ঢুকে তারা নিজেরাই গুলিয়ে ফেলছিলেন। তাই প্রতিটি গোছানো আক্রমণই হতাশাতেই শেষ হচ্ছিল।
ত্রয়োদশ মিনিটে এক জনকে চোখের পলকে কাটিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। শটও নেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের এক জনের পায়ে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে আরও সামনে এগিয়ে যান টানা চারবারের বর্ষসেরা তারকা, এবার তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক।
অষ্টাদশ মিনিটে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ফ্রি কিক ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে আবারও হতাশ হতে হয় বার্সেলোনা সমর্থকদের।
৩৬তম মিনিটে আরেকবার গোল মিসের হতাশায় পুড়তে হয় মেসিকে। ডি বক্সের বাইরে সামনে থাকা তিন ডিফেন্ডারের বাধা এড়াতে আচমকা জোরালো শট নেন মেসি। শুয়ে পড়ে কোনোমতে সেটা ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক রুবেন।
প্রথমার্ধের বাকিটা সময়ের চিত্রও একই থাকে; বার্সেলোনার একের পর এক আক্রমণ রুখতেই পুরোটা সময় ব্যস্ত থাকতে হয় অতিথিদের রক্ষণভাগকে। এই অর্ধে একবারের জন্যও স্বাগতিকদের ডি বক্সে বল পায়ে ঢুকতে পারেনি লেভান্তে।
দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। তবে এবার আর প্রথমার্ধের মতো হতাশায় পুড়তে হয়নি তাদের। ৪৯তম মিনিটে মেসির ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার বারত্রা।
সাত মিনিট পর আবারও লেভান্তের জালে বল। এবারের গোলদাতা নেইমার। ডি বক্সের মধ্যে থেকে ব্রাজিলের অধিনায়কের নেওয়া শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে ফের শট নেন তিনি, যা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। বাঁদিক দিয়ে দ্রুত গতিতে ঢুকে পড়া নেইমারকে ডিফেন্ডার তুহিলো ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। তা থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি।
৬৬তম মিনিটে বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানের ভুলে ব্যবধান কমায় লেভান্তে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার কামারাসার ক্রস ফিস্ট করতে এগিয়ে আসা স্টেগান ব্যর্থ হলে ফাঁকায় বল পেয়ে যান স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ভিক্তর। সহজেই স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি।
১০ মিনিট বাদে ফের তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে লক্ষভেদে ব্যর্থ হন মেসি। মরক্কোর ডিফেন্ডার জোউ মেসিকেই ফাউল করায় পেনাল্টিটা পেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
পেনাল্টিতে শেষ ১২ বারের প্রচেষ্টায় মেসির এটা ষষ্ঠ মিস। আর ক্যারিয়ারে পঞ্চদশ বারের মতো গোল করতে ব্যর্থ হলেন তিনি। লা লিগার গত ১০ মৌসুমে মেসির চেয়ে পেনাল্টি মিস আর কেউ করেনি। তার সমান ৬ বার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া আরেক খেলোয়াড় হলেন ভালেন্সিয়ার স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো নেগ্রেদো।
৯০তম মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা কিছুটা হলেও দূর করেন মেসি। দুই জনকে কাটিয়ে লেভান্তের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তবে এখানেও একটা হতাশা যোগ হলো বৈকি, পেনাল্টিটা মিস না করলে হ্যাটট্রিক হতে পারতো।
এই জয়ে ৪ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ১২। দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ১০। ভিয়ারিয়াল ও সেল্তা দি ভিগোর পয়েন্ট ১০ করে, তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আছে তারা।