| |

ইসলামপুরে বানে ভাসছে লাখো-মানুষ

ইসলামপুর সংবাদদাতা ঃ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বানে বাসছে লাখো মানুষ। উপজেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি চরম অবনতি হযেছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান জানান, বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বন্যার পনি যমুনার ২০.৫৭ সেন্টিমিটার পয়েন্টে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ২০.৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১০৪সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে উপজেলার ৯৫ টি সরকারী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠায় বিদ্যালয়গুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা । উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গতকালও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা এবং চিনাডুলি ইউনিয়নের চিনাডুলি এলাকায় বন্যায় পানির ঘূর্ণীয়মান ¯্রােতের আবর্তে রাস্তা ভেঙ্গে শতাধিক বাড়ী ঘর বন্যার ¯্রােতে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। তবে প্রাণহানীর কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানাগেছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে ইসলামপুর উপজেলার শিংভাঙ্গা সড়ক এবং ইসলামপুর- গুঠাইল আমতলী .ডেবরাইপ্যাচ,উলিয়া, নোয়ারপাড়া ও চিনাডুলী সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, ইসলামপুর সদর, ইসলামপুর পৌরসভার একাংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্ল­াবিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষ উঁচু স্থানে,বিভিন্ন স্কুলে,আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের খাদ্য বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি গো খাদ্যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। হাঁস,মুরগী বানের পানিতে ভেসে যাচ্ছে।
ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, চিনাডুলি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে ইউনিয়নটির আভ্যন্তরীণ সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়াও চিনাডুলি ইউনিয়নের দেলিরপাড় থেকে বানিয়াবাড়ী পর্যন্ত এলাকার পাকা সড়ক বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরদিকে আমতলী বাজার,ডেপরাইপ্যাচ বাজার,গুঠাইল বাজার বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ৭টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান, নোযারপাড়া ইউনিয়নের যমুনাতীরবর্তী ১৮ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে খাদ্য সংকটে ভোগছেন। এ ইউনিয়নটির অধিকাংশ কৃষকের পাট ও ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।
ইসলামপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী শাহীন জানান, ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের ৮টি ওয়ার্ডের ১৫হাজার মানুষ পনিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় এ ইউনিয়নটির আভ্যন্তরীণ বেশীরভাগ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দিদের ঘরে ঘরে রান্নাকরা খাদ্যের সংকট চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। যাহা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
পাথর্শী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসমত আলী খান জানান, এ ইউনিয়নে মুরাদাবাদ,বানিয়াবাড়ী,ডেঙ্গাগড়,জারুলতলা ,পাথর্শী গ্রাম সহ ১০টি গ্রামে প্রায় ১২হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এবং গুঠাইল,জারুলতলা,মলমগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, ইসলামপুরের ৮টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন এবং বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান বন্যা কবলিত ৮টি ইউনিয়ন পৌরসভায় ৫২মেঃটন চাল পূর্বাঞ্চলের চন্য ৩৫ মেঃটন চাল ও উপজেলায় ৬০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্ধ হয়েছে।
জামালপুর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান জানান, ত্রান বিতরনে সুস্থ তদারকির জন্য একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হচ্ছে।