| |

সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি কটিয়াদীর ভুনা গ্রামের মানুষ ১০ পরিবার গ্রাম ছাড়া

নজরুল ইসলাম খায়রুল: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নিকলী সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে অতিষ্ট হয়ে ও জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কটিয়াদীর ভুনা গ্রামের ১০টি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর যারা সেখানে বসবাস করছেন তারাও রয়েছেন চরম আতংকে।
জানা গেছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এ.কে.এম. নূরুজ্জামান মেনুর পৈত্রিক বাড়ি ছিল কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ভুনা গ্রামে। সন্ত্রাসীদের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে চলে যান পার্শ্ববর্তী নিকলী উপজেলার জাল্লাবাদ গ্রামে। সেখানেও টিকতে পারেননি তিনি। গত ঈদুল ফিতরের দিন সন্ত্রাসীরা সেখানেও তার ওপর হামলা চালায়। বাড়ি ঘর ভেঙে তছনছ করে দেয়। অবশেষে জাল্লাবাদ গ্রামটিও ছাড়তে হয় তাকে। চলে আসেন কিশোরগঞ্জ শহরের মনিপুর ঘাট এলাকায়। পরিবার পরিজন নিয়ে মনিপুর ঘাটে ভাড়া বাসায় ওঠেছেন তিনি। প্রিয় জন্মভুমি ছেড়ে এখন তিনি মাসিক ভাড়ায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৃদ্ধ মেনু মাস্টার আক্ষেপ করে বলেন, বাপ দাদার ভিটে সহজে কেউ ছাড়তে চায় না। এরপরও তিনি গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, ভুনা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ও আনার উদ্দিনের কাছে জিম্মি গোটা এলাকা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তারা এলাকাটিকে জিম্মি করে রেখেছে বলে তিনি জানান। গত ঈদের দিন ভুনা গ্রামের ওয়াসিমের একটি ছাগল আনার উদ্দিনের ভাগ্নি জামাতার পাটক্ষেত নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে আনার ও তার লোকজন ওয়াসিম ও তার আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। নিকলী ও কটিয়াদী থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুনা গ্রামের মনিরুজ্জামান ঝুনু বলেন, আনার ও গিয়াস সহোদর ভাই। অন্যের জমি দখল, তুচ্ছ ঘটনায় নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচার তাদের নিত্য দিনের ঘটনা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে আনার ও তার ভাই গিয়াস বাহিনীর হাতে তারা জিম্মি বলে জানান তিনি। এদের অত্যাচারে এলাকার ১০ টি পরিবার গ্রাম ছেড়েছে বলে তিনি জানান। তাদের কেউ কিশোরগঞ্জ সদর, কেউ বাজিতপুরে, কেউ নিকলীতে, কেউ ঢাকায় গিয়ে বসতি গড়েছেন। কটিয়াদী ও নিকলী থানায় আনার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫ টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। আনারও কাউন্টার মামলা করে গ্রামবাসীকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত আনার উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে বলেন, বরং মনিরুজ্জামান ঝুনুর অত্যাচারে তিনি বাড়ি ছাড়া। তার ঘর ভেঙে লুটপাট করেছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন জানান, ভুনা গ্রামের সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এরপরও সংসদ সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে মীমাংসার উদ্যোগ নিবেন বলে জানান তিনি। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঈদ চৌধুরী বলেন, আমরা প্রকৃত অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় আনবো। নিকলী ও কটিয়াদী থানার যৌথ উদ্যোগে প্রায়ই এ গ্রামে অভিযান পরিচালিত হয় বলে তিনি জানান। তবে ভুনা গ্রামটি নিকলী, কটিয়াদী ও বাজিতপুর এ তিন থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অনেক সময় তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে তিনি জানান।
এব্যাপাওে কটিয়াদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুছ ছালামের সাথে মোবাইল ফোনে (০১৭১৩৩৭৩৪৮৪) যোগাযোগ করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।