| |

ডালমিয়া আর নেই

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান জগমোহন ডালমিয়া আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বি এম বিরলা হাসপাতালে গত রোববার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় তথা বিশ্ব ক্রিকেটের প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্ব।
গত বৃহস্পতিবার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর বিএম বিরলা হার্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ৭৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেট সংগঠককে ভর্তি করা হয়।
এক টুইটার বার্তায় তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিসিসিআই।
প্রবীণ ক্রিকেট সংগঠকের শরীর শনিবারই কেবল একটু ভালো ছিল। তার চিকিৎসকরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিসিসিআই প্রধানের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তারা এও জানিয়েছিলেন, তাকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
পশ্চিম বঙ্গ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএবি) একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় মিডিয়াগুলো জানিযেছে, রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় হঠাৎ করেই ডালমিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এ সময় একটি ভয়াবহ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন তিনি। যা তাকে শেষ অব্দি ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর দুয়ারে। শত চেষ্টার পরও ডালমিয়ার হৃদপিণ্ড সচল করতে পারেনি চিকিৎসকরা।
ডালমিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোক নেমে এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদীসহ দেশটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শোক জানিয়েছে আইসিসি ও বিসিসিআই। তার মৃত্যুতে শোকাহত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করেছেন, ‘দুঃখের সংবাদ। ডালমিয়া চলে গেলেন। তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী ক্রীড়া প্রশাসক, বাংলার একজন প্রকৃত প্রেমিক। তার প্রতি জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা।’
এদিকে, ডালমিয়ার প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করে প্রাক্তন ক্রিকেটার উৎপল চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘আমাদের ক্রিকেটকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন একজন মানুষ। তিনি জগমোহন ডালমিয়া। একজন ভাল মানুষ এবং দক্ষ প্রশাসক ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শুধু বাংলাই নয়, অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের। এমন কী বিশ্ব ক্রিকেট তার অভাব অনুভব করবে।’
গত মার্চে তৃতীয় মেয়াদে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়া ডালমিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গত কিছু দিন ধরেই শঙ্কা ছিল।
আইসিসির তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডালমিয়া। দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। ক্রিকেটের বিশ্বায়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা মনে করা হয় তাকে। ক্রিকেটকে বিশ্বজনীন খেলায় রূপ দিতে নিয়েছিলেন অনেক উদ্যোগ।
তার নানা উদ্যোগ ও দূরদর্শিতায় সেই সময় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসার ছুঁয়েছিল নতুন উচ্চতা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় বন্ধু মনে করা হতো ডালমিয়াকে। বাংলাদেশে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্বআসর আয়োজন সম্ভব হয়েছিল তার দায়িত্বের সময়ই, ১৯৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপ।
প্রশ্নবিদ্ধ পারফরম্যান্স, উপযুক্ত অবকাঠামো ও আরও অনেক কিছুর ঘাটতি থাকার পরও যে বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল, সেটির পেছনেও বড় অবদান ছিল ডালমিয়ার।
উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ৩০ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জগমোহন ডালমিয়া। একজন মারওয়ারি ব্যবসায়ী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করা ডালমিয়া ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবেও। ১৯৮৩ সালে বিসিসিআই’র কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর গত ৩৬ বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে পাহাড়সম অবদানই রেখেছেন তিনি। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইন্দ্রজিত সিং বিন্দ্রের সঙ্গে জুটি বেধে ভারতীয় তথা উপমহাদেশের ক্রিকেটকে উচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরতে শুরু করেন ডালমিয়া। তাদের দুজনের চেষ্টাতেই ১৯৮৭ ও ১৯৯৬ সালে এই উপমহাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন করে আইসিসি। দুটি আসরই ব্যবসায়িকভাবে সফল হওয়ায় বিশ্ব ক্রিকেটে গুরুত্ব বেড়ে যায় ভারতীয় উপমহাদেশের। এরই ফলশ্রুতিতে ২০১১ সালেও বিশ্বকাপের আসর বসেছে এই মহাদেশে।
১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া। ২০১৩ সালে তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি শ্রীনাবসন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে ডালমিয়াকে অন্তবর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে চলতি বছর মার্চ থেকে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারে মতো বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন তিনি।