| |

বকশীগঞ্জে বন্যায় বানভাসি মানুষের চরম দুর্ভোগ , ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দি, ত্রাণের পরিমান অপ্রতুল

জিএম সাফিনুর ইসলাম মেজর ঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বন্যার ফলে বানভাসি মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অব্যাহত ভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে ৪ ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে প্রবল বন্যায় ২৫ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিলেরপাড়, ডেরুরবিল, বালুগাঁও, আচ্চাকান্দি, গাজীরপাড়া, চর কামালের বার্তী, আইরমারী তালতলা, শেক পাড়া, কুতুবের চর,বাংগাল পাড়া, মেরুরচর ইউনিয়নের কলকিহারা, বাগাডুবি, ভাটি কলকিহারা, মাইছানির চর , মাদারের চর, মদনের চর , নীলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা , গুমের চর, পাগলাপাড়া, বিনোদর চর, ও বগারচর ইউনিয়ন সহ ৪০ টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় বানভাসিদের চরম দুর্ভোগে পড়েছে । ভয়াবহ বন্যায় নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে বন্যা কবলিত এলাকায় । একই সঙ্গে গো-খাদ্যের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে । বিভিন্ন এলাকায় গুর-বাছুর, ছাগল, হাঁস -মুরগী বিভিন্ন রোগে মারা যাচ্ছে। প্রতি নিয়ত পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার কবলে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পানি উঠায় পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। বন্যার ফলে আউশ ধান, বীজতলা, সবজির ক্ষেত সহ প্রায় ৫শ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। অন্যদিকে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী খান পাড়া, কুতুবের চর, মদনের চর ,চর কামালের বার্ত্তী, শেক পাড়া, তালতলা , মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা, পূর্ব কলকিহারা, বাগাডুবা , মাইছানির চর, ফকির পাড়া এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনের নদী ভাঙনে বন্যা কবলিত এলাকার প্রায় ২ শতাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু সরেজমিনে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করেছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র না জানলেও সৃষ্ট বন্যায় বিভিন্ন শতাধিক পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে মৎস্য চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
সাধুরপাড়া ইউনিয়নের নবনর্িাচিত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু জানান, আমার ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাস্তাঘাট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। আকস্মিক বন্যায় বিলেরপাড় থেকে কামালের বার্তী রাস্তার ঠান্ডারবন নামক স্থানে ভেঙে যাওয়ায় খালের সুষ্টি হয়েছে। এতে ঠান্ডারবন গ্রামের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বিলেরপাড় গ্রামের রাস্তাটিও হুমকির মুখে রয়েছে। একারণে বিলেরপাড় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি ঢুকে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, প্রবল বন্যার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে বানভাসি ও বন্যার্তদের ২৫ মে.টন চাল বরাদ্দ পাওয়ায় গেছে। শিগগিরই এসব বিতরণ করা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য আমরা কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন বানভাসিদের পাশে রয়েছে।