| |

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারে ভারতীয় রুপি : আটক ৫

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : চট্টগ্রাম বন্দরে গৃহস্থালি পণ্যের নামে কন্টেইনারে করে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় রুপি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। রোবার রাতের এ ঘটনায় গতকাল সোমবার ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
এরা হলেন- কন্টেইনার আমদানিতে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফ্ল্যাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান এ এস এম সায়েম ওরফে শামীমুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মী মো. আহম্মদ উল্লাহ ও মো. কাউসার আলম এবং কন্টেইনারের প্রেরক দুবাইপ্রবাসী শাহীদুজ্জামানের ভাই মো. তৌহিদুল আলম।
গতকাল সোমবার বিকালে বন্দরের ৪ নম্বর জেটি ঘাটে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক মঈনুল খান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শামীমকে হালিশহর থেকে এবং বাকিদের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
রোববার রাতে বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি কন্টেইনার খুলে চারটি কার্টনের ভেতরে ভারতীয় মুদ্রা পান কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর স্থায়ী বসিন্দা ও দুবাইপ্রবাসী মো. শাহীদুজ্জামানের নামে পাঠানো কন্টেইনারটি বন্দরে এনেছে হালিশহর এলাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফ্ল্যাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।
সংবাদ সম্মেলেনে মঈনুল খান বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ের জাবেল আলী বন্দরে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমভি প্রসপার’ নামের একটি জাহাজে কন্টেইনারটি তোলা হয়। জাহাজটি কলম্বো বন্দর হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। ব্যাগেজ ডিক্লারেশনের ফরমে শাহীদুজ্জামানের যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে পাসপোর্টে দেওয়া স্বাক্ষরের মিল নেই।
তিনি জানান, শাহীদুজ্জামান ৬ জুন দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মঈনুল বলেন, ভারতীয় রুপিগুলো আনতেই অন্য গৃহস্থালি পণ্যগুলোর চালানকে ‘ক্যামোফ্লেজ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এঘটনাকে ‘ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অংশ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “ভারতীয় রুপি আনার ক্ষেত্রে স্থানীয় ও আন্তর্জতিকভাবে আর কারা জড়িত তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
দেশে বিদেশি মুদ্রা সনাক্ত করার প্রযুক্তি না থাকায় ওগুলো জাল কিনা তা জানা যায়নি।
মঈনুল খান বলেন, “কন্টেইনারে আরো কি কি জিনিস আছে তা জানতে এখনো তল্লাশি চলছে। এর মধ্যেই কিছু স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।”
তিনি জানান, প্রায় দেড় ইঞ্চি পুরো ফ্রেমের ১৬টি বাক্স তৈরি করে তার মধ্যে থরে থরে ভারতীয় রুপিগুলো সাজিয়ে চারটি কার্টনে রাখা ছিল।
ওই কন্টেনারের সঙ্গে আসা আরও তিনটি কন্টেইনার পরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে।
কন্টেইনারে রুপি পাওয়ার খবরে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এবং শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে যান।
মঈনুল খান বলেন, বাংলাদেশকে ‘ট্রানজিট হিসেবে’ ব্যবহার করে এসব ভারতীয় মুদ্রা ‘অন্য কোথাও’ পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে তার ধারণা। অপরাধমূলক কাজের জন্য এসব আনা হয়েছে। অতীতেও যত ভারতীয় রুপি বাংলাদেশে আটক হয়েছে তার অধিকাংশই ছিল জাল। এসবও জাল হতে পারে বলে মনে করছি।