| |

বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে!

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ লাখ শিশু ক্যান্সার রোগী রয়েছে। ২০০৫ সালে ক্যান্সারে মৃত্যু হার ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এখনই সচেতন না হলে ২০৩০ সালে মৃত্যুহার বেড়ে ১৩ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক র‌্যালি থেকে এ সব তথ্য জানান ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার বাংলাদেশের প্রকল্প প্রধান এবং বিএসএমএমইউ’র পেডিয়ার্ট্রিক হেমাটোলজি ও ওনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস সেপ্টেম্বর উপলক্ষে সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ইউকেএইড’র সহায়তায় ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার এ র‌্যালির আয়োজন করে।
ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ঠিক কতজন শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে তার সঠিক তথ্য জানা নেই। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ২ লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এসব শিশুর প্রায় ৮০ শতাংশই মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে ক্যান্সার আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫ ভাগ। অথচ উন্নত দেশগুলোতে এই হার ৮০ ভাগ।
প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করা গেলে ও উন্নত চিকিৎসা পেলে ৭০ শতাংশ রোগী সেরে উঠতে পারে কিন্তু মাত্র ২০ শতাংশ রোগী উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পায়।
আফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যান্সার নিয়ে আমাদের মনে একটা ভীতি আছে যে, ক্যান্সার হলেই আর বাঁচানো যাবে না। কিন্তু প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলে এ রোগী ভাল হওয়া সম্ভব।’
বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থা থাকলেও মাত্র কয়েকটা হাসপাতালে এ চিকিৎসা করা যায় উল্লেখ করে অন্তত প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ চিকিৎসা ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
র‌্যালিতে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সারের হেড অব অপারেশনস লিজ বার্নসসহ বিএসএমএমইউ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।