| |

দেশের মাটিতে ফলের রাণী ‘রাম্বুটান’

সৌমিন খেলন : আষাঢ়ের ফুল ভেবে কিশোরীর খোঁপায় গুজলেও ভুল হবে না। দেখতে ঠিক যেন বকুল ফুল। প্রকৃতপক্ষে সুস্বাদু ভিনদেশী রসালো এক ফল। নেত্রকোনা জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোজনেচ্ছুদের মধ্যে  এ ফলটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ফলের গা থেকে শক্ত ও পুরো খোসা ছাড়িয়ে নিলেই মনে হবে দেশীয় ফল লিচু। কিন্তু না, ভুল করা যাবে না লিচু ভেবেও। কারণ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় এ ফলের নাম ‘রাম্বুটান’। লিচু পরিবারের এ ফলের  বৈজ্ঞানিক নাম- (ঘবঢ়যবষরঁস ষধঢ়ঢ়ধপবঁস)। এ ফলটি বিশ্বে ফলের রানী হিসেবে পরিচিত বলে তথ্য দেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। সবুজে শ্যামলে ভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নাজিরপুর ইউনিয়নে হরিপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ওসমান গণি নিজ বাড়িতে বানিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ করছেন। প্রতিবছর ফলনও হচ্ছে বেশ। গাছে এ বছর ৪ শ’ কেজির মতো ফলন হয়েছে। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩ শ’ থেকে ৪ শ’ টাকার মধ্যে। রাম্বুটান বা নেফেলিয়াম লেফাসিয়াম নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন ফলটি নিয়ে বেশ সাড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেন ওসমান গণি। ফলের সময় হলে প্রতি বছর দূরদূরান্তের জেলা-উপজেলা থেকে ভোজন রসিক মানুষজন রাম্বুটান সংগ্রহের জন্য বাড়িতে ভিড় করেন। মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবেও ফলটি নিয়ে থাকেন অনেকেই। এদিকে রাম্বুটান নিতে আসা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন স্বদেশ সংবাদে বলেন, রাম্বুটান খাওয়ার আগ্রহ নিয়ে কলমাকান্দায় আসা। ওসমান গণির কাছ থেকে রাম্বুটানের চারা সংগ্রহ করে রোপন করেছি কিন্তু  এখনও ফলন হয়নি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারদের সহযোগিতায় গবেষণা করছি। চট্টগ্রাম থেকে আসা বাহারাইন প্রবাসী কৌশিক ভৌমিক স্বদেশ সংবাদে বলেন, ‘প্রবাসে থেকে দেশের ২৪ ঘন্টার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন থেকে কলমাকান্দায় রাম্বুটান চাষের বিষয়টি জানতে পারি। তারপর ইচ্ছে ছিল দেশে ফিরলে নিজ হাতে গাছ থেকে রাম্বুটান পেরে খাবো ও নিয়ে যাব’। একই কারণে রাজধানী ঢাকার উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর থেকে এসেছিলেন, এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির সত্ত্বাধিকারী শংকর দেবনাথ ও তার স্ত্রী সাধনা দেবনাথ। তারা জানান, রাম্বুটান অনেক সুস্বাদু ফল। নিজেরা খেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য ৫ কেজি নিয়ে যাচ্ছি। প্রতিকেজি ফলের দাম ৪ শ’ টাকা। তবে আকার আকৃতি ভেদে রাম্বুটান কেজি প্রতি ৩ শ’ টাকাও আছে বলে মন্তব্য তাদের। ফলটি নিয়ে চারিদিক থেকে সাড়া পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক ভাবনা সুদূর প্রসারী হয়েছে জানান, ওসমান গণি। একটি গাছ থেকে রাম্বুটান সংগ্রহ করা সম্ভব হয় ৩ শ’ থেকে ৪শ’ কেজি। একটি রাম্বুটানের ওজন সর্বনিম্ন ৩৫ ও সর্বচ্চো ৫৫ গ্রাম। কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ আর পাকাপোক্ত অর্থাৎ খাবার উপযোগী হলে গাঢ় লাল রঙের হয় রাম্বুটান। রাম্বুটান দেশে আসা নিয়ে ইতিবৃত্ত জানতে চাইলে ওসমান গণি স্বদেশ সংবাদে জানান, প্রবাস শেষে মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ সালে দেশে ফেরার সময় ২ কেজি রাম্বুটান নিয়ে এসে ছিলেন তিনি। ফল খেয়ে বীজ ফেলে দেওয়ার পর দুটি চারা গাছের জন্ম হয়। একটি গাছ বড় হওয়ার পর ৯৯ সালের মার্চ মাসে প্রথম ফলন আসে। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল স্বদেশ সংবাদে জানান, রাম্বুটান খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। ফলন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুল থেকে পরিপূর্ণ ফল হতে সময় লাগে ২৮ দিন। খাওয়ার উপযোগী অর্থাৎ পাঁকতে ৩২ দিনের মত লাগে। উর্বর লাল মাটিতে ফলন ভালো পাওয়া যায়।