| |

কলাগাছ খেতেই আগুন দেখে পালালো হাতিটি ভারতীয় উদ্ধার প্রতিনিধি ফিরে গেছে ঢাকা

ষ্টাফ রিপোটারর্স ঃ মাদারগঞ্জের উত্তর চরভাটিয়ানি গ্রামে রবিবার দুপুর ২ টায় দর্শনার্থীদের ডাকে কলাগাছ খেতে এসে আগুন দেখে দ্রুত ওই গ্রামের বিলের মাঝে সরে গেছে সেই হাতিটি। এদিকে হাতি উদ্ধারে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি রবিবার দুপুরে হাতি উদ্ধার কার্যক্রম বাদ দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন। তবে হাতিটি জলাশয় ছেড়ে ডাঙ্গায় না উঠায় বাংলাদেশী উদ্ধার দলের ১৭ জন সদস্য হাতিটির কাছেই নৌকায় বসে হাতিটির গতিবিধি পর্যবেক্ষন করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রবিবার দুপুরে মাদারগঞ্জের সিধুলি ইউনিয়নের উত্তর চরভাটিয়ানি গ্রামের আব্দুল মজিদ মন্ডলের বাড়ির উঠান থেকে মাত্র দুইশ মিটার দুরে কোমড় পানিতে দাঁড়িয়েছিল হাতিটি। এসময় উৎসুক দর্শনার্থীরা হাতিটিকে মামা ডাক দিয়ে বলে মামা এসো কলা গাছ খেয়ে যাও। তখন উৎসুক দর্শনার্থীর মামা ডাকে সাড়া দিয়ে হাতিটি দ্রুত কলাগাছ খেতে আসে একেবারের পাঁচশতাধিক দর্শনার্থীর সামনে। এসময় চরভাটিয়ানি গ্রামের জহুরুল ইসলাম পানিতে নেমে ডাঙ্গা থেকে মাত্র ১০ মিটার দুরে কয়েকটি কলাগাছের টুকরো রেখে দ্রুত সরে আসে। এসময় দর্শানার্থীদের নিকট থেকে মাত্র ১০ মিটার দুরত্বে এসে পানিতে অবস্থান করে হাতিটি কলাগাছ খেতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের্^র বাড়ির লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে হাতিটি তাড়াতে টিন পিটিয়ে শব্দ করে এবং ধানের খড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় হাতিটি টিনের শব্দ শুনে এবং আগুন দেখে কলাগাছ খাওয়া ছেড়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায় উত্তর চরভাটিয়ানি গ্রামের সামনে বিলের মাঝে। এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উৎসুক দর্শনার্থীরা হাতির সামনে আগুন প্রদর্শন কারীদের ব্যাপক গালমন্দ করে মারমুখী হলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম ও চরভাটিয়ানি গ্রামের মজিদ মন্ডলসহ স্থানীয় মাতাব্বররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।। হাতিটি রবিবার গভীর রাত থেকেই চরভাটিয়ানি গ্রামের সামনে বিলের মাঝে বন্যার পানিতে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একই গ্রামের ইদ্রিস আলী জানান, হাতিটি তাদের এলাকায় অবস্থান করায় গত ১০ দিন ধরে তারা হাতি আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারেন না। রাতের বেলায় মাঝে মধ্যেই হাতিটি লোকালয়ে প্রবেশ করে। তাই তারা রাতে হাতি তাড়াতে মশাল জ¦ালিয়ে পালাক্রমে জেগে থাকেন।
এদিকে হাতিটির উদ্ধার কাজে বাংলাদেশ ১৭ সদস্যের নেতৃত্বদানকারী বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, পানিতে থাকায় হাতি উদ্ধার সম্ভব নয় ভেবে হাতি উদ্ধারে আসা ভারতীয় তিনজন সদস্য ঢাকা ফিরে গেছেন। কারণ ভারতীয় প্রতিনিধি দল আগামী মঙ্গলবার নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তবে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের হাতি উদ্ধার দল হাতিটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত হাতিটিকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়াও হাতিটিকে কোন ভাল রাস্তার পাশের্^ ডাঙ্গায় পেলে সময় সুযোগ বুঝে ট্যাংকুলাইজার গান দিয়ে হাতিটিকে অজ্ঞান করে শিকলে বেঁধে ট্রাক যোগে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে নেওয়া হবে। সেখানে হাতিটিকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।