| |

কিশোরগঞ্জে মসনদ-ই- আলা ঈশা খানের ৪১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নজরুল ইসলাম খায়রুল : বৃহত্তর ভাটি রাজ্যের অধিপতি মসনদ-ই-আলা ঈশা খানের ৪১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী  পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে ঈশা খানের স্মৃতিবিজড়িত জঙ্গলবাড়িতে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট সংগঠক রেজাউল হাবীব রেজা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান প্রতœতাত্ত্বিক মোঃ সাদেকুজ্জামান। কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও গবেষক আমিনুল হক সাদীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেল সুপার মো.বজলুর রাশিদ, জঙ্গলবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর আশরাফৃ উদ্দিন, এশিয়ান পোস্টের সম্পাদক মো.হাবিবুর রহমান বিপ্লব, কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ও একাত্তর টিভির প্রতিনিধি আবু তাহের, সংস্কৃতি কর্মী এস.এম জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক মো.আনোয়ার হোসেন, লেখক মোবারক হোসেন বিজ্ঞানী,ঈশা খানের ১৫ তম অধস্তন পুরুষ দেওয়ান জামাল দাদ খান, দেওয়ান সাব্বির দাদ খান, দেওয়ান দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ফারুকুজ্জামান, সংস্কৃতিকর্মী মাহবুবুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রতন মিয়া, জুয়েলুর রহমান জুয়েল, কবি জুয়েল মাহমুদ সুজন, সমাজসেবী মনির উদ্দিন শিপন, শেখ মোফাজ্জল হোসেন স্বপন, সংস্কৃতি কর্মী এজ্জাজ হোসেন কাজল, আবুল কাশেম,একেএম শাহ কামাল,সুজিত দেবনাথ প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি “ কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পর্যটন উন্নয়ন ও প্রতœস্থল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এবং মহাবীর ঈশা খানের জীবনী শীর্ষক” প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পঠিত প্রবন্ধের ওপর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিস্তারিত আলোচনা করেন।  পরে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফ আলী সোহান। এ সময় রাজনৈতিকদলের সমর্থক, সংস্কৃতিকর্মী ও ইতিহাসপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ১৫৩৬ মতান্তরে ১৫৩৭ সালের ১৮ অক্টোবর মতান্তরে ২৫ আগষ্ট বি-বাড়িয়া জেলার সরাইলে জন্ম গ্রহণ করেন। প্রথমে সরাইলে পরবর্তীতে সোনারগাওয়ে রাজধানী স্থাপন করেন তিনি। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িতে বৃহত্তর ভাটি রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন। ৬২ বছরের মধ্যে ৩৬ টি বছরই মোঘলদের সাথে অবিরাম যুদ্ধের ফলে জীবনের উচ্ছলতায় ভাটা পড়ে যায় মহাবীর ঈশা খাঁনের। ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ঈশা খাঁন কিছুদিনের বিশ্রামের জন্য সোনারগাঁও থেকে মহেশ্বরদী পরগণা বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের বক্তারপুর দুর্গের প্রাসাদভাটিতে গমন করেন। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শারিরিকভাবে খুবই দুর্বল হয়ে যান। রাজকীয় চিকিৎসায় অবিরাম চেষ্টা করেও তাঁকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হন। এই অবস্থায় ১৫৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর ভাটিবাংলা অধিপতি মসনদ-ই- আলা ঈশা খান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুরে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।