| |

ভালুকায় মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা  ঃ  ভালুকায় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় মাতব্বগণ কালক্ষেপন করেও কোন সুরাহা না হওয়ায় রবিবার দুপুরে মেয়ের বাবা বাদি হয়ে মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ি পশ্চিম পাড়ায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের ত্রিশাল উপজেলার চকরামপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী স্ত্রী আজমলা বেগম ও তিন মেয়ে নিয়ে হবিরবাড়ি পশ্চিমপাড়া হবিরবাড়ি বাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা শাহাব উদ্দিনের বাসায় ভাড়ায় থেকে স্থানীয় এফআরএল ডায়িং ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় ইয়াকুব আলীর কিশোরী মেয়ে স্থানীয় বাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪) প্রতিবেশি হবিরবাড়ি ইউনিয়ন সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের বাসায় টিভিতে সিনেমা দেখতে যায়। সিনেমা দেখে বাসায় ফেরার সময় মোফাজ্জলের কলেজ পড়–য়া ছেলে তুষার (১৯) ওই মেয়েকে কৌশলে ঘরে নিয়ে গামছা দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মেয়ের ডাক চিৎকারে ধর্ষকের পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
ভিকটিম জানায়, সিনেমা দেখে বাসায় যাওয়ার পথে তুষার ও তার এক বন্ধু হুসাইনের সহযোগীতায় তাকে বিভিন্ন হুমকী দিয়ে জোড়পূর্বক তাদের ঘরে নিয়ে যায় এবং গামছা দিয়ে তারা দু’জন আমার হাত-পা বেঁেধ ওই হুসাইন চলে যায়। পরে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে তুষার তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে তুষারের বড় বোন তামান্নাসহ বাড়ির লোকজন বিষয়টি জনলেও তাকে উদ্ধার করতে আসেননি।
ধর্ষিতার মা আজমলা বেগম জানান, ঘটনার পরপরই আমার মেয়ের ডাক চিৎকারে ওই বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। পরে এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মাতব্বর ছাইমুদ্দিন বিষয়টি ফয়সালা দেয়ার জন্য ভিকটিমের পরিবারের  সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করে কালক্ষেপন করেন।
নিরুপায় হয়ে রবিবার দুপুরে ভিকটিমের বাবা ইয়াকুব আলী বাদি হয়ে অভিযুক্ত তুষারসহ চারজনকে বিবাদী করে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হযরত আলী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।