| |

ময়মনসিংহে অটোবাইক চার্জিং ব্যবসা জমজমাট ঃ বিউবো’র রাজস্ব গচ্ছা কোটি কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ  ময়মনসিংহ শহর শহরতলীর বহু স্থানে অটোবাইক ও অটোরিক্সা চার্জিং ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। কতিপয় অর্থলোভী ব্যক্তি বড় বড় গ্যারেজ তৈরীকরে নিজেদের দু’চার-পাঁচটি অটোবাইক/অটোরিক্সারসঙ্গে বিভিন্ন জনের চল্লিশ/পঞ্চাশ এমনকি শত বাইকে প্রতিরাতভর বিদ্যুৎ চার্জের অবৈধ ব্যবসা গড়ে তোলেছে। এই ব্যবসা করে স্বার্থপর লোকগুলো রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে থাকলেও সরকারের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বারোটা বাজাচ্ছে। এসব বিদ্যুৎ চার্জিং সেন্টারগুলোতে বিউবো’র ব্যাপক বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ চার্জিং সেন্টার গুলোর মালিকরাযথাযথ নিয়মে মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিলেও মিটারের বাইরে দিয়ে আরেকটি চোরাই ও গোপন লাইন নামিয়ে নিয়েছে। ওই চোরাই লাইনেই রাতভর বাইকগুলো চার্জ করে দেয়। যার রিডিং মিটারে আসছেনা। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহৃত ইউনিটের মাত্র এক সপ্তমাংশ/অষ্টমাংশের বিল বিউবো পাচ্ছে। বাকী ৬/৭ ভাগ রাজস্ব চার্জিং সেন্টারের মিটার মালীক মেরে খাচ্ছেন। উপরোক্ত কায়দায় ময়মনসিংহের বিউবোর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব মেরে খাওয়াদের একজন শহরতলী সুতিয়াখালী বাজারের মোঃ আবদুল করিম। মৃত হাজী আক্কাছ আলী মন্ডলের পুত্র এই আব্দুল করিমের অটোবাইক/অটোরিক্সার বিশাল গ্যারেজ ও বিদ্যুৎ চার্জিং সেন্টারটি বাজারস্থ বিউবো’র ট্রান্সমিটারের বিপরীতে রাস্তার পাশেই। আবদুল করিমের নিজস্ব মাত্র ৪টি অটোবাইক রয়েছে। কিন্তু নিজের ৪টি বাদে বিভিন্ন জনের আরো ৪০টি অটোবাইক তার চার্জিং সেন্টারে রাতভর চার্জ দেয়া হয়। প্রতি রাত চার্জের বিনিময়ে প্রতি বাইক থেকে ১শ’ ৩০ টাকা করে মোট ৫ হাজার ২শ টাকা রাতপিছু আদায় হয় করিমের। এই হিসেবে তার প্রতিমাসে আয় ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মাসে বিদ্যুৎ পুড়ানোর (ব্যবহারের) বিল আসার কথা ৭০/৮০ হাজার টাকা। কিন্তু রহস্যজনক ভাবেই তার মিটারে মাসে বিল আসছে মাত্র ৮/১০ হাজার টাকা। গোপনে দু’নম্বরী বিদ্যুৎ লাইন করার বদৌলতে সে মাসে বিউবো’র ৭০ সহস্রাধিক টাকা রাজস্ব মেরে খাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর ধরেই চলছে তার এই জমজমাট ব্যবসা। বিগত ৩ বছরে বিউবো শুধু চার্জিং সেন্টার মালিক করিমের কাছেই রাজস্ব মার খেয়েছে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। এভাবে জেলার সকল চার্জিং সেন্টারে কোটি কোটি টাকা মার খাচ্ছে বিউবো। বিউবো’র মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কি করেন তা ভাববার বিষয়। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দিবেন কি ?