| |

ভালুকায় টাকা দিতে হয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের

আঞ্চলিক প্রতিনিধি : প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ন অবৈতনিক। এরপরও বেশ কয়েক বছর যাবৎ ‘প্যারা টিচারের’ বেতনের জন্য মাসিক ২০টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পানিবান্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে।
সরজমিনে উপজেলার পানিভান্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বসে কাজ করছেন দুই জন শিক্ষক। অপর তিন শিক্ষক পাঠদান করছেন বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষে। ওই সময় কথা হলে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পাঠদানরত লুৎফুন নাহার জোৎন্স্যা জানান, তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্যারা টিচার। মাঝ খানে দুই বছর বাদে প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন তিনি। তবে, উপজেলা থেকে যখন শিক্ষক দেওয়া হয় তখন তাকে আর বিদ্যালয়ে যেতে হয়না। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা কমে গেলেই তার ডাক পড়ে। তবে, গত ছয় মাস যাবৎ নিয়মিতই ক্লাশ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে দু’টি ক্লাশ নেন তিনি। মাঝে মধ্যে অন্যান্য শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতেও পাঠদান করতে হয় তাকে। আর এর জন্য বিদ্যালয় থেকে তাকে প্রতি মাসে দেওয়া হয় ১২শত টাকা করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে লুৎফুন নাহার জ্যোৎন্সাকে প্যারা শিক্ষক হিসাবে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শুধুমাত্র ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২০টাকা হারে আদায় করে মাসিক ১২শত টাকা হারে দেওয়া হয় ওই শিক্ষিকাকে। শিক্ষার্থীদের ওই টাকায় শিক্ষকার বেতন না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির দেওয়া টাকা থেকে অবশিষ্ট টাকা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারেই শিক্ষক হিসাবে লুৎফুন নাহারকে রাখা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্য ৫৪জন বলে জানান তিনি।
ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, মাসের টাকা সময়মত পরিশোধ করতে না পারলে তাদেরকে ক্লাশে দাড় করিয়ে রাখা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে পরে কথা হবে বলে জানান। উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান কালের কন্ঠকে জানান, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে শিক্ষক অভিবাবক সমিতির টাকায় এবং বিদ্যালয় পরিচালনা সিদ্ধান্তে প্যারা শিক্ষক রাখা যেতে পারে। তবে, কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করা যাবে না। উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি অনিয়ম। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।