| |

গোপালপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর মামলায় ৯দিনেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি

এ কিউ রাসেল : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ভিতরে মুক্তিযোদ্ধাদের জাত তুলে নানা ধরণের বাজে কটুক্তি, গালি-গালাজ এবং রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ তার দুই পুত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ৯দিনেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় চরম হতাশায় রয়েছেন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ রোববার সকাল ১০টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলন করবে মুক্তিযোদ্ধারা।
মামলার এজাহার ও আহতে বড় মেয়ে হাফিজা খাতুনের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের তুলাজান গ্রামের মৃত হাসমত আলীর ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের সাথে একই গ্রামের মৃত সোবাহান আলীর ছেলে আমির আলীর সাথে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের টাকা কেন্দ্র করে বিবাদ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য হাবিবুর রহমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দ্বারস্থ হন। গত ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে সংসদের কমা-ার আবদুস সোবাহান তুলাসহ মুক্তিযোদ্ধারা দু’পক্ষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে শালিসে বসেন। আসর নামাজ বিরতিরকালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী আমির আলী (৩৫), কামাল হোসেন (৪৫), আবদুল কদ্দুস (৫০), আনিছুর রহমান (৩৫), আলামিন (২৬), আনছের আলী (৪৫), মতি (৫০), আবদুস সালাম (৫২) গংদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জাত তুলে নানা ধরণের বাজে কটুক্তি, গালি-গালাজ এবং রুমের দরজা বন্ধ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের দুইপুত্র লেয়ার ফার্ম ব্যবসায়ি আবুল নাছির স্বপন (২৬) ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মিলন (১৮) কে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে ১৫ টাকা ছিনতাই করে নেন। মারাত্বক আহত মুক্তিযোদ্ধা ও তার দুই পুত্রকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহনের বাধা দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় জোরপূর্বক বাড়ি পাঠিয়ে দেন হামলাকারিরা। রাতে অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটলে পাশ্ববর্তী মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিহন আহত ওই বীরমুক্তিযোদ্ধা ও তার দুই পুত্র। এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার আবদুস সোবাহান তুলা ও ডেপুটি কমা-ার মিনহাজ উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ভিতর ডুকে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নানা ধরণের বাজে কটুক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ তার দুই পুত্র বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর শুক্রবার গোপালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই দিনই আহত বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে উক্ত ৮জনের নাম উল্লেখ করে গত ১১ নভেম্বর গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার আবদুস সোবাহান তুলা জানান, ‘মামলার কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা চরম হতাশায় রয়েছি। ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে রোববার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোপালপুর থানার এসআই মো. আবদুল হাই জানান, ‘প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। মামলার আসামিরা পালাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’