| |

নান্দাইলের বেতাগৈর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি মূল্যের কার্ড বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ

নান্দাইল প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেতাগৈর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি মূল্যের কার্ড বিতরনে সীমাহীন অনিয়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, দুই ছেলে করেন পুলিশে চাকরি, তিনি নিজেই অঢেল সম্পদের মালিক। হাত খুলে দানখয়রাতও করেন। সময় মতো দেন জাকাত-ফিতরা। অভাব-অনটন বলতে কিছুই নেই। তবু তিনি পেয়েছেন হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড (নম্বর ১৯৬১)। মো. রজব আলী (৬৫)। ময়মনসিংহের নান্দাইলের বেতাগৈর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের কার্ড পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাচা (এ প্রতিনিধিকে), মিছা কথা কইলে কী অইবো, আমি না চাইলেও তাঁরা (নেতা) আমারে একটি কাড দিছে। হেরা কইছে, আপনের তো একটা ষাঁড় (গরু) আছে, হেইডারে খাওয়াইন যে, আর যদি চাউল ভালা অয় তো নিজেও খাইতান পারবাইন। কিন্তুক অহন আমি কাড নিয়া লজ্জিত পইর্যা গেছি, কাডের মধ্যে আমার পরিচয় দিছে দিনমজুর। কইনছেন দেহি মাইনসে হুনলে কী কইবো?’ রজব আলী এই মাসের চালও তুলেছেন। সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হতদরিদ্র অনেকেই কার্ড না পেয়ে আক্ষেপ করছেন। অথচ তাঁদের সামনে দিয়ে কার্ড পেয়েছেন সচ্ছল ও বিত্তবানরা। লোহিতপুর গ্রামের এবাদুল্লার আছে পাকা বাড়ি। ছেলের রয়েছে মাইক্রোবাস। আরো আছে প্রচুর ধানি জমি। তিনি পেয়েছেন ১০ টাকার চালের কার্ড (নম্বর ২০০০)। হতদরিদ্রদের কার্ড পাওয়া প্রসঙ্গে এবাদুল্লাহ বলেন, ‘আমি বাবা পেসারের (প্রেশার) রোগী। কাম-কাজ করতে পারি না। তাই একটি কার্ড চেয়েছিলাম। তবে আমি হতদরিদ্র নই। এ কথা শুনে চাচাতো ভাই এবাদুল্লাকে পরামর্শ দেন কার্ডটি ফেরত দেওয়ার জন্য।
এ ছাড়া বীর কামটখালী উত্তর বাজারের ডিলার মো. নুরুল ইসলাম মীর তাঁর স্ত্রী মনোয়ারাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে রয়েছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাঁচটি কার্ড। জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁকে হেয় করতেই তালিকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম তোলা হয়েছে। নামগুলো বাদ দেওয়ার জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আবেদন করেছেন বলে জানান। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ডিলার জেনেশুনেই নাম এদিক-সেদিক করে তালিকায় নাম উঠিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, ডিলারের কোনো আবেদন পরিষদ পায়নি। অন্যদিকে চৈতনখালী গ্রামের মো. শহীদ মিয়া আছেন ওমানে। অথচ তাঁর নামে রয়েছে হতদরিদ্রের কার্ড (নম্বর ২১৫১)। যথারীতি তোলা হচ্ছে চাল। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ হাত লম্বা একটি হাফবিল্ডিং বসতঘর রয়েছে। শহীদের মা মালেকা বেগম জানান, দুই বছর ধরে তাঁর আরেক ছেলে আব্দুছ ছাত্তার সৌদি আরবে রয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর খামাটখালী গ্রামের আফির উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম, মোতালেকের ছেলে হুমায়ুন, সৈয়দ মীরের ছেলে মো. হাফিজুল মীর ও বীর খামাটখালী গ্রামের কালু খানের ছেলে মনন খান ঢাকায় থাকলেও তাঁদের নামে কার্ড হয়েছে, চালও পাচ্ছেন। ওই সব এলাকায় তালিকা করেছেন ইউপি মেম্বার ও দলীয় নেতারা। তাঁদের মধ্যে মেম্বার গিয়াস উদ্দিন ও দলীয় নেতা নবী হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কেউই ওই সব বিতর্কিত লোকজনের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান। বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, প্রত্যেক হতদরিদ্রের নামের পাশে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ১৩ সংখ্যার নম্বর লেখা রয়েছে। কিন্তু বেতাগৈর ইউপির তালিকায় এনআইডি নম্বর লেখা নেই। ফলে ঘষামাজা ও নাম কাটাকাটি করা অসংখ্য কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহানুর আলম জানান, তিনি এসব বিষয়ে তদন্তে মাঠে নামবেন। প্রমাণ পেলে কার্ড বাতিল করা হবে। তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট লোকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।