| |

ইটনায় বছর না ঘুরতেই হিলিপের গ্রামরক্ষা দেয়ালে ধস ॥ আতঙ্কিত গ্রামবাসী

নজরুল ইসলাম খায়রুল : কিশোরগঞ্জের ইটনায় বছর না ঘুরতেই হিলিপের গ্রামরক্ষা দেয়ালে ধসে গেছে। আর তাই হুমকির মুখে পড়েছে পুরো গ্রামের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে করে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার বড়িবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাগ  গ্রামটি রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে গত বছর হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (হিলিপ) আওতায় গত বছর ৬৫লাখ টাকা খরচ করে গ্রাম প্রতিরক্ষা দেয়ালটি নির্মাণ করা হয়। ৭০৫মিটার লম্বা প্রতিরক্ষা দেয়ালটি নির্মিত হওয়ায় গ্রামবাসী হয়েছিল মহা খুশি। কিন্তু দেয়াল ধসের ঘটনায় এখন গ্রামবাসী ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাফিয়া আক্তার জানান, গ্রাম বাঁচাতে প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরী করা হলোকিন্তু তা কাজে লাগছে না গ্রামবাসীর। বছর না ঘুরতেই ধসে গেছে দেয়াল। শিমুলবাগ গ্রামের জসিম দাদ খান জানান, গ্রামে প্রতিরক্ষা দেয়াল হওয়ায়  এলাকাবাসী তাদের বাড়িঘর মেরামতের উদ্যোগ নেয়। অনেকে জমি বিক্রি ও ধারকর্জ করে দেয়ালের কাছাকাছি জায়গায় মাটি ফেলে তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নেন। কিন্তু অসংখ্য জায়গায় দেয়াল ধসে পড়ায় দুর্ভাবনায় আছেন।
এব্যাপারে হিলিপ প্রকল্পের কিশোরগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী মোঃ নূরুল আমিন জানান, দেয়ালটি গ্রাম ঘেঁষে করতে না পারায়  হাওরের পানির চাপে দেয়ালটি ধসে গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দানেশ আকন্দ জানান, চোখের সামনে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে প্রকল্পের কাজ দায়সারাভাবে শেষ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মওলা জানান প্রকৃতপক্ষে এ প্রকল্পের বাজেট ছিল কম। তবে ধসে যাওয়া অংশগুলো মেরামতযোগ্য। পানি কমে গেলে এগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।
গ্রামের লোকজন জানান, এভাবে ঢালাই করা পাটাতন দিয়ে ভাঙনের কবল থেকে গ্রাম বাঁচানো সম্ভব হবে না। আরসিসি দেয়াল নির্মাণ করে দিলে আজকের এ অবস্থা হতো না। স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, দেয়াল নির্মাণ কাজে বড় ধরণের অনিয়ম হয়েছে। আর এই কারণেই গ্রামবাসী বলছে প্রতিরক্ষা দেয়াল তাদের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাই গ্রামবাসী জরুরী ভিত্তিতে এর সমাধান চেয়েছেন।