| |

মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সকলের ছোট বাজার মুক্তমঞ্চে দ্বিতীয় দিনের আলোচনায়-বক্তবাগণ

মুক্ত ময়মনসিংহ ও মহান বিজয় দিবস ‘১৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ময়মনসিংহ জেলা কমান্ডের উদ্যোগে নগরীর ছোটবাজার মুক্তমঞ্চে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন গতকাল রোববার (১১ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাকৃবি’র ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর বলেন, সর্ব প্রথম আমি স্মরণ করছি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ  সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আরো স্মরণ করি জাতীয় চার নেতাকে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের ও ৩ লাখ মা-বোনকে। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিজয়। যে চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার সেই চেতনার বিজয়। সেই চেতনাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই যুদ্ধ এই বিজয় একদিনে একবারে আসেনি। ৫২, ৬৬, ৬৮, ৬৯ এর আন্দোলন পেরিয়ে ৭০ এর গনভোট, পরে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর আহবানেই মুক্তিযুদ্ধ হয়। দেশের দামাল ছেলেরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। স্বাধীনতার পর যখন জাতি সুফল পাবে ঠিক তখনি স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র  ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকরে সুফলের পথ বন্ধ করে দেয়। ষড়যন্ত্র দেশকে অনেক পিছনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কাজে হাত দেন। কয়েক বছরেই আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে তিনি বিশ্বে বাংলাদেশ কে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আজ আসুন আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি এবং বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই।
জাতীয় সংসদ সদস্য জাপানেতা ফখরুল ইমাম বলেছেন, ৪৫ বছর আগের মুক্তিযুদ্ধের কথা আমরা ভুলতে বসেছি। কেও না আসলে একলা চলো রে এই ধারণা মনে নিয়ে যুদ্ধ করেছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন না হলে আজ আমরা দেশের যে যে অস্থানে আছি তা পেতামনা। আজকের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পক্ষের  সকল শক্তিকে স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহণ করা উচিত। দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ সমৃদ্ধির জন্য যতকিছু সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সংগ্রামী জাতি বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ অর্জন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব। এক্ষেত্রে আশাহত হওয়ার কোন অবকাশ নেই।
বিশেষ অতিথি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের, সন্তানদের চাকুরীর কোটা, ভর্তি কোটা করলেও তা এগুচ্ছেনা। আমলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর মতো সম্মান করছেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের যতটুকু সম্মান করা হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের  দেশ থেকে চিরতরে নির্বাসনের জন্য স্বাধীনতা শত্ররা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আজ ষড়যন্ত্র কারীদের রুখতে, সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ চালানোর দায়িত্বটা কার ? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরই কি এই দায়িত্ব ? স্বাধীন, সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক এই দেশে যারা বড় বড় কর্মকর্তা, শিক্ষক, সচিব, পরিচালক, মহাপরিচালক, সহ বিভিন্ন পদে আসীন হয়ে সুবিধাভোগ করছেন তারা কি করবেন ? মনে রাখতে হবে স্বাধীন এদেশে বসবাসকারী সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে  দেশকে ২১ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে কতিপয় ভুল হলেও সামনের যাচাই বাছাইয়ে কোনরূপ ভুল হবে না। কেউ দুর্নীতি করলে, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে যাচাইবাছাই করলে সরবরাহকৃত ফরম পূরনেই ধরা পড়বে।
বাকৃবি’র প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যগী মা-বোনদের স্মরণ করে বলেন, এদেশ একদিনে স্বাধীন হয়নি। ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকেই স্বাধীনতার সংগ্রামের সূচনা পরবর্তীতে পাকিস্তানের পশ্চিম পাকিস্তানীদের নিপীড়ন নির্যাতনের প্রতিবাদ মুখর হন। তৎকালীন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য সর্বস্তরের মুক্তিকামী দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারী স্বাধীনতা বিরোধীদের নিপাত করে দেশের উন্নতি সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। চলমান সকল দ্বিধা বিভক্তি শেষ করতে হবে। আজ জাতির জনকের কন্যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারনে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ কৃষি মৎস্য সহ সব সেক্টরে জাতি সমৃদ্ধির পথে। তিনি বলেন, জাতির জনক কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্বদেন। ১৯৭৩ ইং সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কৃষিবিদদের ১ নম্বর ক্যাডার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আজ তার কন্যাও কৃষিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারনেই আজ দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনে ধারন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে বিশ্বে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট কমান্ডের যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সেলিম সাজ্জাদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ ড. সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল পাশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. রাজ্জাক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এ. গনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন লিটু, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মহিউদ্দিন তৌফিক টিটু, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এফ এম আনোয়ার হোসেন বাবু ও ইমতিয়অজ আহমদ বুলবুল।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে সংগীত পরিবেশন করে স্বরলিপি সাংস্কৃতিক একাডেমী নৃত্য পরিবেশন করে স্বভূমি সাংস্কৃতিক এমাডেমি, জ্যান্স একাডেমী ও নাটিকা পরিবেশন করে অনসাম্বল থিয়েটার অনুষ্ঠান শেষেও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।