| |

আজো ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের স্বাধীনতা নস্যাতে সকল প্রকার অপত্যপরতা চালিয়ে যাচ্ছে-বক্তাগন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মুক্ত ময়মনসিংহ ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ময়মনসিংহ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে শহরের ছোট বাজার মুক্তমঞ্চে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার ৫ম দিন গতকাল বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ শীর্ষক আলোচনানুষ্ঠানে বক্তাগন বলেছেন, বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই আমরা ’৭১ এ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকষ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষনা শুনেই আমরা প্রাণ বাজি রেখে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনকরি। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও স্বাধীনতা বিরোধী সেই রাজাকার-আলবদরদের দোসররা বিরোধী রাজাকার আলবদরদের দোসররা থেমে যায়নি। তারা ষড়যন্ত্র করে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করে, পরবর্তীতে কারাগারে জাতীয় নেতাকে হত্যা করে দেশের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দেশকে পিছিয়ে দিয়ে পুরানো পাকিস্তানী ভাবধারায় দেশ চালানো শুরু করে। দীর্ঘদিন পর আজ আবার সময় এসেছে জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং দেশেকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার। বক্তাগন আরো বলেন, দেশের সার্বিক মুক্তি ও উন্নয়নই ছিলো মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর অন্রতম লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙ্গালী জাতির মুক্তির জন্যেই নয় বিশ্বের দরিদ্র নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষের নেতা ছিলেন। তাঁর এই গুনের জন্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তার প্রশংসাই করেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশকে পৃথিবীর মধ্যে উচু করে তোলতে চেয়েছিলেন। আজ তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাংলাদেশকে পৃথিবীর উচ্চতম স্থানে নিয়ে যেতে সর্বাতœক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দেশের সকল নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করা এবং বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক গংদের প্রেতাত্মাদের খতম করা।
বক্তারা বলেন, আজ আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে গর্বভরে বলতে পারি আমরা বাঙ্গালী। অথচ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বিশ্বে স্বাদীন বাংলাদেশের জন্মই হতোনা। স্বাধীনতার পর হানাদার পাক দোসরদের ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার চেতনাকে ভুলুষ্ঠিত করে। বহু বছর পরে হলেও বঙ্গবন্দুর কন্যা ক্ষমতায় এসে সার্বিক দিকে দেশ ও দেশের উন্নতির শিখরে নিয়ে গেছেন। আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলায় প্রতিষ্ঠিত করবেন ইনশাল্লাহ। আমাদের কর্তব্য শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সৈনিক হয়ে তাকে সহযোগিতা করা। বক্তারা বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা যেন কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে না যাই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তোলে ধরতে হবে। স্বাধীন এই দেশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে তাদের কে। ভুলে গেলে চলবে না আজো ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের স্বাধীনতা নস্যাতে সকল প্রকারে অপত্যপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ময়মনসিংহ জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন আল রশিদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ফারমার্স ব্যাংক লিঃ এর চেয়ারম্যান (অডিট) ও মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) বিশেষ অতিথি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ পৌর মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু, আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, সাবেক এমপি খন্দকার আবদুল মালেক শহীদুল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রব, কৃষিবিদ ড. সামিউল আলম লিটন, সাবেক যুবলীগ সভাপতি প্রদীপ ভৌমিক, জেলা যুবলীগ  সাধারণ সম্পাদক এম এ কদ্দুছ, অধ্যক্ষ আবু সাইদ দীন ইসলাম ফখরুল, অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, জেলা যুবলীগের শাহ শওকত উসমান লিটন, অধ্যাপিকা দিলরুবা শারমিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মোঃ সাদেকুর রহমান তালুকদার ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ আনোয়ার। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোস্তাফিজুর রহমান ও এবিএম ফজলে রানা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে ও পরে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।