| |

শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশেরই নয় ঃ বিশ্বের অন্যতম নেতা-আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে তিনি আজ তার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মডেল। পৃথিবীর কোন দেশেই বাংলাদেশের মতো এতো দ্রুত ডিজিটাল সাফল্য আসেনি। শেখ হাসিনা আজ শুধবাংলাদেশেরই নন, বিশ্বের অন্যতম নেতা। গতকাল শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টার ও সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধকের বক্তব্যে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন ময়মনসিংহ নগরী ও এর সঙ্গে যুক্ত মহাসড়কে অপরাধ ও যানজট নিরসন এবং অপরাধী চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পুলিশ ও মিডিয়ার কর্মীদের সমন্বয়ে কাজ করার জন্যই এই মিডিয়া সেন্টার ও সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠা। এ থেকে পুলিশের পাশাপাশি ময়মনসিংহে কর্মরত সাংবাদিকরা তথ্য সংক্রান্ত সুবিধা পাবেন। সাধারণ মানুষেরাও উপকৃত হবেন। ময়মনসিংহে সিসি ক্যামেরা-টিভিচালু একটি আধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশেরই একটি অংশ বিশেষ। এ ক্ষেত্রে সমাজের সকলেরই সহযোগিতার প্রয়োজন। আইজিপি বলেন শুধু পুলিশ দ্বারাই অপরাধ ও যানজট কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রতিটি নাগরিকেরও সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য বোধ থাকা উচিত। অতীত স্মরন করে তিনি বলেন, আমি ময়মনসিংহের অতিঃ পুলিশ সুপার পদে থাকাকালে এখানকার অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও দমনে সচেতন সাধারণ মানুষদের নিয়ে প্রথম ডিফেন্স পার্টি গঠন করেছিলাম। তা থেকে সুফলও পাওয়া গিয়েছিল। শহরবাসীও স্বস্থি পেয়েছিল। পরবর্তীতে এইঅভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা সহ সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাচালু করা হয়। তাতে সর্বস্তরের নাগরিকগণ সহায়তা করেন। এই ব্যবস্থা সুনাম বয়ে আনে। তিনি এখানে পুলিশ ও মিডিয়া সমন্বয়ে প্রকাশিতএকটি বই এর কথাও উল্লেখ করেন। যা উপকারে আসবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হলুদ সাংবাদিকতা কমেছে, ময়মনসিংহেও কমবে।
আইজিপি আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ময়মনসিংহের রাস্তাঘাট এখনো অপরিস্কার ময়লা-আবর্জনায় ভরা ও সরু। এটা যানজটের অন্যতম কারণ। এর উন্নয়নে ভিশনারী নেতার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মাস্টার প্ল্যান করে মেয়র উদ্যোগ গ্রহণ করলে পুলিশ প্রশাসন অবশ্যই সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ  সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ পছন্দ করেনা বলেই জনগনের সক্রিয় সহযোগিতায় জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। সকলেরই প্রচেষ্টায় দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে জ্বালাও-পুড়াও, জঙ্গী-সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে। দেশ প্রেমিক জনগনের সহযোগিতায় পুলিশ ওদেরকেও দুর্বল করে দিতে সমর্থ হয়েছে। তিনি পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য জনগনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রতিও আহবান জানান।
ময়মনসিংহের পুুুুুুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম বর্তমান আইজিপি একে এম শহীদুল হক কর্তৃক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকাকালে) গঠিত ডিফেন্স পার্টি ও কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রশংসা করে বলেন, ডিফেন্স পার্টি ও কমিউনিটি পুলিশিং এর কারনে দেশে অপরাধ অনেক কমেছে জঙ্গী-সন্ত্রাস দমনেও সহায়ক হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশকে সার্বিকভাবে ডিজিটাল কর্মসূচীর আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। সর্বসাধারনের সহায়তা ও উৎসাহ পেলে পুলিশ বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে আরো সচেষ্ট হবেন। ময়মনসিংহের সকল অপরাধ ও যানজট নিরসনও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন জেলা পুলিশের কার্যক্রম ডিজিটালের আওতায় আনার লক্ষ্যে মিডিয়া সেন্টার ও সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। এতে সারা নগরী ছাড়াও ভালুকায় জেলার শেষ সীমান্ত পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে উন্নত প্রযুক্তির শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি ইংল্যান্ডের আদলে করা হচ্ছে। থাকছে ১২ কোর ফাইবার ক্যামেরা। যা থেকে সহজেই অপরাধীকে সনাক্ত ও ধরা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল পুলিশের আজকের উদ্বোধনকৃত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন ও এর সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন এই ব্যবস্থায় পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রনে দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা থাকবে বলে কামনা করেন।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন এই নেটওয়ার্ক থেকে আগামীদিনে মানুষ উপকৃত হবে এবং যতপ্রকার অপরাধ ও সমস্যাদি নিরসন সম্ভব হবে। বক্তব্যে তিনি ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ময়মনসিংহের পুলিশ সদস্যদের স্মরনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের দাবী জানান।
মিডিয়া সেন্টার ও সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক উদ্বোধনের পর আইজিপি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন এবং প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি’র সহধর্মীনি মিসেস শামসুন্নাহার রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, পৌর মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটুসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সন্ধ্যায় পুলিশ সাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, ফখরুল ইমাম, সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ মুক্তি, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. ভোকেট জহিরুল হক খোকা প্রমুখ।