| |

রাজনীতিকদের মানুষের ভালোবাসা অর্জনের চেয়ে বড় কিছু নেই-শাকিল স্মরণ সভায় সেতুমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অনেক অনেক সংগ্রাম আন্দোলনের সুতিকাগার এই ময়মনসিংহ। এই অঞ্চলের অনেক নেতাই বিশেষ করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া, জিল্লুর রহমান, মোঃ শামছুল হক সহ অনেকে স্মরনীয় হয়ে আছেন। দীর্ঘদিনের সঠিক সুষ্ঠু রাজনৈতিক কর্মের জন্যই তারা আজ স্মরণী। তবে আমাদের তরুণ সহকর্মী মাহবুবুল হক শাকিল এর মতো তরুণ কেউ ছিলেন না।  মেধা, যোগ্যতা, সততা, বিশ্বস্ততা, আপোষহীনতা, অনুগত্যশীলতা, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানে কাজে একাগ্রতার জন্যই নির্লোভ, নির্মল ও কোমল মনের তরুণ এই রাজনীতিক সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা যত ছবি, যত পোস্টার ব্যানার যত ফুল, ফুলের মালা যত প্রকার লেখা দেখি সবই একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে লেখা নাম, মানুষের ভালোবাসা শেষ হবে না। এরূপ ভালোবাসারই মূর্ত প্রতীক শাকিল।। তাকে ঘিরে মানুষের এতো ভালোবাসা। যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই স্মরণ সভাটি জনসভায় পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসা অর্জনের চেয়ে বড় কিছু নেই। কোন না কোন ভাবে অর্জিত অর্থ বিত্ত, অট্রালিকা কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু মানুষের ভালোবাসা। মানুষের ভালোবাসার শাকিল দেশ প্রেম ও নিরলস কর্ম দিয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রীর পাশের নয়, প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত স্নেহভাজন হয়ে ওঠেন। তাই তার অকাল মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছেন। তার মা-বাবার চেয়েও বেশী কষ্ট পেয়েছেন। শাকিলের মৃত্যু সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী শোকে বোবা হয়ে যান। শাকিল যে অবস্থানে ছিল ইচ্ছে করলে  বহু অর্থ বিত্ত উপার্জন করতে পারতো কিন্তু ইচ্ছে করলেই সকলের ভালোবাসা অর্জন করা যায় না।
গতকাল শুক্রবার (২০ জানুয়ারী) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অকাল প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিল স্মরন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম এর সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় মন্ত্রী আরো বলেন, এখন থেকে আওয়ামীলীগ দলটিকে সুশৃংখল করুন। করতে হবে। সকল নেতা-কর্মী সমর্থকদের আরো উজ্জীবিত হতে হবে। যাচ্ছেতা ভাবে সময় নষ্ট করা যাবেনা। সময়ের মূল্য অনুধাবন করতে হবে। দলে কর্মী সমর্থক কমে গিয়ে নেতার সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে সিকি নেতা, পাতি নেতা, উপনেতা সহ নেতা আরো কত কি। আওয়ামীলীগে নেতা নয়, কর্মী উৎপাদনের কারখানা চাই। কর্মদিয়ে কর্মী, সমর্থক ও জনগনের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। কর্মী-জনগণের পরামর্শ ও সমসার কথা শুনতে হবে। অযথা নেতামী বরদাশত করা হবে না। জনপ্রতিনিধিদের জমিদার হলে চলবে না। খাই খাই ভাব রাখা যাবে না। মওসুমী পাখি, বসন্তের কোকিল হলে চলবে না। জনগনের ভালোবাসা অর্জন করুন। আগামীতে দেখে শুনেই নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে। এখনো সংশোধন হয়ে যান, নয়তো দল ছেড়ে চলে যান। কারো অপকর্মের দায় জনপ্রিয় শেখ হাসিনার সরকার নিতে পারে না নিবে না। তিনি বলেন, বিএনপি’র কথা ভাবলে চলবে না। বিএনপি এখন মরাগাং। বিএনপি এখন নালিশ পার্টি। বিএনপি শুধু আগামী দিনের আশাই করছে। শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের স্রোতে বিএনপি’র আশা ভেসে গেছে। শীগ্রই ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যেতে মাত্র ১ ঘন্টা লাগবে। মন্ত্রী ময়মনসিংহ নগরীতে প্রবেশ দ্বারের বাইপাস গোলচত্বরটিকে অকাল প্রয়াত শাকিলের নামে নাম করনের প্রস্তাবের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মূখ্য আলোচক জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আক্তার পপি, জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ডাঃ এম আমান উল্লাহ, সংসদ সদস্য এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য শরীফ আহম্মেদ, সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাভেল, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন, মহানগর ছাত্রলীগের আরিফ আহমেদ, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরা সুলতানা মনি, এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব প্রমুখ।
স্মরন সভাটি পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সেক্রেটারী এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শুভাকাঙ্খী ও আত্মীয় স্বজন সহ হাজার হাজার মানুষ সাকিলের স্মরণ সভায় অংশ গ্রহণ করেন।