| |

ময়মনসিংহ আদালতে এমপি মোসলেম উদ্দিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফুলবাড়িয়া কুশমাইল গ্রামের মৃত শুকুর মামুদ মুন্সির পুত্র মোঃ মোসলেম উদ্দিন এডভোকেট (৭৬) সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফুলবাড়িয়া আদালতে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধ আইন ১৯৭৩ এর ৩ (২) এ/বি/সি ও ৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল ২৩ জানুয়ারী (সোমবার) সকালে ০৫৪ নং মামলাটি দায়ের করেন ফুলবাড়িয়ার জোরবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলি মন্ডলের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন (৭০)। মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলেন, ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ছাবেদ আলি মন্ডলের পুত্র ফয়জল বারী (৬৫), চৌদার গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলী মুন্সীর পুত্র আঃ ছামাদ মাস্টার ওরফে টিক্কা খান (৭৮), একই গ্রামের মৃত ছুতি মন্ডলের পুত্র আবদুল মন্ডল (৮২), কুশমাইল গ্রামের মফিজ উদ্দিন ওরয়ে মফে (৮২), ভালুকজান গ্রামের মৃত নায়ের আলি ফকিরের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৭৪), পুটিজানা বৈলাজান গ্রামের মৃত মামুদ আলি মৃধা’র পুত্র মোকছেদ আলি (৭০), ফুলবাড়িয়া গ্রামের এবাদুল্লাহ (৭২), কুশমাইল দেওনাইরপাড় গ্রামের মৃত ছলি মন্ডলের পুত্র মোকছেদ আলি (৮০), একই গ্রামের মৃত আয়েন আলি মন্ডলের পুত্র ওয়াহেদ আলি মুন্সী (৮০), মৃত জোনাব আলি মন্ডলের পুত্র ছুরহাব আলী (৮০), কালাদহ গ্রামের মৃত ফজর আলি আকন্দর পুত্র আবুল হোসেন (৭৮), একই গ্রামের মুসা (৭৫), পাটুলী গ্রামের কোরবান আলির পুত্র আঃ হালিম (৬৫), আছিম তিতারচালা গ্রামের আবদুল কদ্দুছ (৬৫) ও আছিম টানপাড়া গ্রামের মৃত হাছেন ফকিরের পুত্র গিয়াস উদ্দিন (৬২)।
মামলাটি দায়েরে বাদীর পক্ষে সহযোগিতা করেন একেএম ফজলুল হক এডভোকেট। মামলায় বাদী বলেছেন, আসামীরা ১৯৭১ ইং সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতাকারী, রাজাকার, আলবদর, আলশামছ, দালাল, যুদ্ধপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধী, জঙ্গী, দেশদ্রোহী ও আইন অমান্যকারী। ১ নং আসামী ১৯৭০ ইং সালের নির্বাচনে ফুলবাড়িয়া আসনে আওয়ামীলীগ থেকে এমপিএ নির্বাচিত হন। যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানী বাহিনীর সমর্থনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার বাহিনী কমান্ডে যোগদান করেন এবং জেলার রাজাকার প্রধান আবদুল হান্নানের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার শান্তি কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত হয়ে ময়মনসিংহ শহরের ছোট বাজারস্থ জিকেএমসি সাহা রোডের এক বাসায় থেকে বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন জনসভায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করে পাকিস্তানীদের পক্ষে সাফাই বক্তৃতা দেন। বক্তৃতায় তিনি ‘পাকিস্তান ভাংগার জন্য নির্বাচিত হই নাই’ বলে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত গড়ে তোলতে সচেষ্ট হন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সমস্ত গোপন তথ্য পাকবাহিনীর নিকট প্রকাশ করেও ফুলবাড়িয়া এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধ    া, আওয়ামীলীগ নেতাদের তথ্য তালিকা ও বাড়িঘর দেখিয়ে দেয়। এমনকি বিবাদী (১ নং) নিজে বাদী মোঃ জালাল উদ্দিনের বাড়ি সহ অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। বিবাদীগন দলবদ্ধ হয়ে বহু মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনে পাকিস্তানীদের দেখিয়ে দেয়। নিজেও ওইসব মানবতা বিরোধী অপরাধ করেন। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অপরাধকর্মে অর্থের যোগানও দিতেন। ১৯৭১ ইং সালের ২৭ জুন দুপুর ১ টার দিকে মোসলেম উদ্দিন সহ বিবাদীগন পাক বাহিনীর ৩৩ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের কতক সৈন্যের সঙ্গে একদল ভুক্ত হয়ে জোরবাড়িয়া গ্রামে বাদীর বাড়ি গিয়ে লুটপাট করে ও আগুন লাগিয়ে বাড়ি পুড়ে দেয়। ওরা মুক্তিযোদ্ধা আবুবকর ছিদ্দিক, আঃ রাজ্জাক, আঃ ছালাম, আঃ মান্নানের বাড়ি, ভালুকজানের পাল বাড়ি, ঋষিবাড়ি সহ আরো ৭/৮ টি বাড়ি লুট করে ও পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বহু ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটায়। কৈয়ার চালা গ্রামের মালেকা খাতুনকে ধর্ষনের পর হত্যা করে। এর আগে ২০/০৬/৭১ ইং তারিখে কুশমাইলের বসু চৌধুরীকে, ১২/০৬/৭১ ইং তারিখে ফুলবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদকে ও ফুলবাড়িয়া বাজারে ৮ জন ঋষিকে হত্যা করে। এসময় বেশ কতক মহিলাকে ধর্ষণ করে বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ২৯/১১/৭১ ইং তারিখে তালেব আলী, সেকান্দর আলি, আলতাব আলীকে ভালুকজানে হত্যাকরে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। ১০/১১/৭১ ইং তারিখে আছিম যুদ্ধে অছিম উদ্দিন মোল্লা, ইসমাইল হোসেন মাস্টার, আঃ কাদের, আঃ করিম, আঃ রশিদ, নায়ের আলীসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে লাশ ভালুকজান বদ্যভূমিতে ফেলে দেয়। ১৪/০৭/৭১ ইং তারিখে শহীদুল্লাহ মাস্টার ও ছাবেদ আলীকে হত্যা করে। এছাড়া শিবরামপুর, হোরবাড়ি, রাঙ্গামাটি, নাওগাঁও, ফুলবাড়িয়া সহ অনেক স্থানে বহু মা-বোনকে ধর্ষণ, বহুজনকে হত্যা, লুণ্ঠন, বাড়িঘর পুড়ানো সহ বহু মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। যুদ্ধকালীন পত্র-পত্রিকায়ও এসব সংবাদ প্রকাশ হয়। আসামীদের সঙ্গীয় শাহাবুদ্দিন মৌলভী, হাফিজ মৌলভী সহ অনেক যুদ্ধাপরাধী মারাও গেছে। মামলা দায়েরের পর আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে প্রেরন করেন।