| |

এবার নেত্রকোনায় বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা-৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ মেট্রিকটন

সৌমিন খেলন : কৃষক শৈল্পিকতায় পানিতে ভরে উঠেছে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া ফসল শূন্য তৃষ্ণার্ত মাঠ। নিপুণ দক্ষতায় পরিশ্রমী কৃষক বোরো আবাদে সবুজের রঙ ছড়িয়ে জমিতে বুনে দিচ্ছে তার আগামীর স্বপ্ন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে এই বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে নেত্রকোনা সদরসহ দশটি উপজেলায় বোরো আবাদে ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিটি গ্রামের কৃষক। সবকটি উপজেলা ঘুরে বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা গ্রাম ছেড়ে অনেকে ঢাকাতে গার্মেন্টস, কলকারখানায় চলে যাওয়া এবং যারা আছেন তারাও পেশা বদলে নিজ এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক হওয়ায়  সংকটের কারণ উল্লেখ করেন। তবে কৃষি পেশা কেন নয় এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কৃষকরা উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে কৃষক-শ্রমিকরা মাঠে কাজ করেন। পরে যদি সে তার ন্যায্য শ্রমমূল্য না পান কি করবে তারা ? বাজারে ধান বিক্রি করার সময় দাম কম দেয়ার লক্ষ্যে নানান ঝামেলা করে ব্যবসায়ীরা।’ বাম্পার ফলন হলেও এসব কারণে ধানের ন্যায্য মূল্য পান না কৃষক। আর তখন স্বাভাবিকভাবে একজন শ্রমিকও ন্যায্য শ্রমমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে কৃষকের কাছ থেকে সরকার ধান কেনার সময় সরকারী সৎ নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরদারী বাড়ানোর দাবি করেন। জেলা সদরসহ দশ উপজেলায় বোরো আবাদে এবছর স্থানীয় জাত, হাইব্রীড ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ১০১ হেক্টর। এরমধ্যে ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে বলে স্বদেশ সংবাদে জানিয়েছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল। সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৭২ মেট্রিকটন। বারহাট্টা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৭৫ হেক্টরে ৫৫ হাজার ৮৯৫ মেট্রিকটন, পূর্বধলা উপজেলায় ২১ হাজার ৯১০ হেক্টরে ৮৫ হাজার ৯৩৪ মেট্রিকটন। ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি আবাদে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫৫ মেট্রিকটন, কলমাকান্দা উপজেলায় ২০ হাজার ২৪০ হেক্টরে ৭৭ হাজার ৭৩১ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে হাওরাঞ্চলগুলোর মধ্যে মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৩১৫ মেট্রিকটন, কেন্দুয়া উপজেলায় ২০ হাজার ১৯৫ হেক্টরে ৭৯ হাজার ৬৭৪ মেট্রিকটন, আটপাড়া উপজেলায় ১১ হাজার ৯৪০ হেক্টরে ৪৬ হাজার ২৭১ মেট্রিকটন, মদন উপজেলায় ১৬ হাজার ৪৮০ হেক্টরে ৬৩ হাজার ৭১৫ মেট্রিকটন ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ১৯ হাজার ৬৫৩ হেক্টরে ৭৯ হাজার ৭৯৯ মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদের এসব লক্ষ্যমাত্রায় ইতোমধ্যে জেলা সদরসহ ১০ উপজেলায় ৬২ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ হয়েছে। প্রাকৃতিক বড় কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে ফসলের বাম্পার ফলনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে এমনটা আশা করে কৃষি বিভাগের উদ্বর্তন ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কৃষকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হয়ে এবার বোরো মৌসুমে প্রত্যেক চাষীর মুখে নিশ্চিত হাসি ফুটবে।