| |

ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়ন অধিকাংশ যমুনার গর্ভে বিলীন॥সীমানা জটিলতায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত

এসএমএ হালিম দুলাল॥জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়ন যমুনার করাল গ্রাসে অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত বিশ বৎসরে সাপধরীর ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকা যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২নং ওয়ার্ড ৫নং ওয়ার্ড, এবং ৮নং ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা এবং ৬নং ওয়ার্ড সম্পূর্ণ রূপে বিগত দিনে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এলাকার নদী ভাঙ্গা মানুষ গুলো বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলাসহ বিভিন্ন শহরে বন্দরে বাস্তহারা হয়ে শত শত পরিবারের হাজারও মানুষ বিচ্ছিন্ন ভাবে বসবাস করে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এ বিষয়ে সাপধরী ইউনিয়নের দুই নং ওয়ার্ডের ফজল হক,৫নং ওয়ার্ডের নজির উদ্দিন মন্ডল,৮নং ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তার পরামাণিক এবং ৬নং ওয়ার্ডের জবেদ আলী মন্ডল বলেন,এ ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়ার্ডের সীমানা পিলার না থাকায় সরকারী উন্নয়ন মুলক কাজে মরাত্বক জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে যমুনার বুকে জেগে উঠা দ্বীপচর গুলোর মধ্যে সাপধরী ইউয়িনের সীমানা নিয়ে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা বাসির মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জের ধরে বিগত ৭বৎসর পূর্বে দুই এলাকাবাসির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তৎকালিন জামালপুরের জেলা প্রশাসক সিরাজউদ্দিন আহম্মেদ এবং বগুড়া জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দু’জেলার সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেযার ভূমি মাপ দেয়। সে সময় বগুরা জেলা সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট বাড়ী হাড়ীয়াদানী মৌজা হতে দক্ষিন ১০০ চেইন উত্তর ৮২ চেইন প্রস্থ্য এবং ৪ কি.মি দৈর্ঘ্য এলাকা সাপধরী ইউপির ভূমি হিসাবে সীমানা পুর্ননির্ধারণ করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত এলাকার নাম রাখা হয় তৎকালিন জেলা  প্রশাসকের নামানুসারে সিরাজনগর। আজো এলাকাটি সে নামে পরিচিত। এছাড়া নদী ভাঙ্গনে সাপধরীর ইউনিয়নের স্থলভাগের মানচিত্র বিলিন হয়ে আবার পুনরায় যমুনার বিভিন্ন স্থানে দ্বীপচর জেগে উঠে। তারমধ্যে দলকারচর,এবং চর বিশরশি এ দু’টি চরে সাপধরীর এলাকাব লোকজন,ভোটারা পর্যায় ক্রমে বসতি স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। যদিও দু’টিচর সাপধরীর ভূখন্ড তবুও তাদের ভোটার করা হয়নি  বলে চেয়ারম্যান সুরুজ মন্ডল জানিয়েছে। অপরদিকে সাপধরী ইউনিয়নের সাথে অন্য ইউনিয়ন এবং এক ওয়ার্ডর সাথে অন্য ওয়ার্ডের সীমানা জটিলতা রয়েছে। নয়টি ওয়ার্ডের অর্ধশতাধিক গ্রাম,বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ রাস্তাঘাট,গাছপালা,বাড়িঘর,অসংখ্য আবাদী জমি, বিগত দিনে নদী গর্ভে বিলীন হয়।এখনও যমুনার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এক সময় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস ছিল। এখন আর তা’নেই। তবে নানা জায়গায় যমুনার দ্বীপচর জেগে উঠলে বর্তমানে কিছু কিছু স্থানে বসতি গড়ে উঠেছে।কিন্তু সীমানা পূর্ণনির্ধারণীর অভাবে ইউনিয়নের মানুষ গুলোর বসবাসের সঠিক কোন পরিসংখ্যান পাওয়াা যায় না। তাই দ্বীপচর বাসি তাদের প্রয়োজনীয় কাজে কোন মেম্বার বা চেয়ারম্যানের কাছে গেলে প্রথমে তারাও ঠিক করে বলতে পারেন না। এ কারনে গত ৫/৮/২০১৬ইং তারিখে ইউপির এক কার্যবিবরনী সভায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সীমানা পুণঃনির্ধারণের জন্য একটি রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরণ করেন। অপর দিকে এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজ মন্ডল তিনি সীমানা জটিলতার কারণে সরকারের উন্নয়ন মুলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।এলাকাবাসী দাবি অবিলম্বে সীমানা পূর্ণর্নিধারণসহ নদী ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন