| |

কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের উত্থান হতে দেব নাঃ প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনভাবেই জঙ্গিবাদের উত্থান হতে দেব না।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়েজিত এক বিশাল জনসমাবেশে একথা বলেন ।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে বরদাশত না করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই এবং আমরা চাই না, কেউ এ ধরনের অপরাধ করুক। বরং আমরা চাই প্রত্যেকেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করুক এবং আমরা দেশটিকে এই পথেই গড়ে তুলতে চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া যখন দেশে ছিলেন তখন আগুনে পুড়িয়ে দেড় শতাধিক লোককে হত্যা করেছেন। তাদের এই নৃশংসতা থেকে বাসচালক, হেলপার, কলেজ ছাত্রী এবং শিশুদের কেউ রেহাই পায়নি। বিএনপি নেতা এখন বিদেশে বসে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছেন।
২০০৩ সালে ও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৃশংসতা এবং সংঘর্ষের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হচ্ছে জন্তু, তারা মানুষ নয়। তারা সরকার বিরোধী আন্দেলনের নামে বহু লোককে পুড়িয়ে মেরেছে এবং দুই থেকে আড়াই হাজার বাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এই অশুভ শক্তিই দেশে এই ধরণের অপরাধ করে যাচ্ছে। কেউ তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
শেখ হাসিনা লেখাপড়ায় মনযোগী হতে এবং মাদকাসক্ত হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আমরা তাদেরকে আর মাদকাসক্তির শিকার হওয়ার সুযোগ দেব না।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি রোল মডেল। কিন্তু কিছু লোক এটি পছন্দ করছে না। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধানের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর হত্যাকান্ডের পর জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কেউই এ বিষয়টি সমাধানের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি।’
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীদের বঞ্চনার অবসান ঘটেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের ছিটমহলগুলো এখন আর ছিটমহল নয় এবং এগুলো বাংলাদেশের অংশ। তিনি বলেন, ‘তারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের পাশে যারা থাকবেন তাদেরকে তাদের আপনজন হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাবেক ছিটমহল বাসিন্দাদের কল্যাণে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সাবেক ছিটমহলবাসীদের কল্যাণে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছিলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কাছে দাবি-দাওয়া করতে হয় না। একটি দেশকে কিভাবে উন্নত করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি নীতিমালাও আছে আমাদের।
কুড়িগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জেলার প্রত্যেকটা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি আমরা। একসময় কুড়িগ্রাম ছিল মঙ্গা অঞ্চল। সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হত। আমরা মঙ্গা দূর করেছি। মঙ্গা শব্দ মানুষ ভুলে যাবে।
কুড়িগ্রামে শিক্ষার হার বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সাক্ষরতার হার অনেক কম। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করা হবে।
এছাড়া কুড়িগ্রামে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য জেলা প্রশাসককে জায়গা চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে ধরলা ও দুধ কুমার নদীর উপর আরও নতুন দুটি সেতু করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া লালমনিরহাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে কুড়িগ্রামে একটি নতুন রেল স্টেশন নির্মাণ, খেলাধুলার জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও কুড়িগ্রামে একটি শিশু পার্ক নির্মাণেরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই এদেশের উন্নয়ন হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এদেশের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার তাই করবে আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রখ্যাত লেখক সৈয়দ শামসুল হক এবং কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বক্তব্য রাখেন।