| |

গৌরীপুরের শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং যেন মৃত্যুকূপ!

শফিকুল ইসলাম মিন্টু ঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ জংশনে গৌরীপুর-নেত্রকোণা সড়কের শ্যামগঞ্জে দুটি লেভেলক্রসিং এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। রেললাইনের মাঝে ও দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা কারণে ট্রেন আসলেও সড়কপথের যানবাহন চালকরা তা দেখতে পারে না। তাছাড়া গেইটম্যান না থাকায় সিএনজি ও হ্যান্ডট্রলি’র সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এই রেলক্রসিংয়ে এ বছর ট্রেন সিএনজি সংঘর্ষে সিএনজি চালক ও এক বৃদ্ধার মৃত্যুও হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে জংশন থেকে মোহনগঞ্জগামী ও জারিয়াগামী দু’টি রেলপথের ডবল লেভেলক্রসিং রয়েছে শ্যামগঞ্জ বাজারে। এ সড়ক পথে নেত্রকোণা, বিরিশিরি থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ দুরপাল্লার বাস, দুর্গাপুর থেকে বালিবাহী ট্রাকসহ গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ রোডের শতাধিক সিএনজি, গৌরীপুর-নেত্রকোণা সড়কের ২৮টি মেক্সি নিয়মিত চলাচল করে। শ্যামগঞ্জ লেভেলক্রসিং পয়েন্টে ৪টি ব্যারিয়েল আছে। নেই কোন গেইটম্যান। ফলে প্রায়শঃ ঘটছে দূর্ঘটনা। সাংবাদিক তিলক রায় টুলু বলেন, গেইটম্যান ও ব্যারিয়েল (লোহার দন্ড) ব্যবহার না হওয়ায় ট্রেনের সঙ্গে সড়কপথের যানবাহনের দূর্ঘটনা বাড়চ্ছে। গত ১১ সেপ্টেম্বরে ২৬১নং ময়মনসিংহগামী ট্রেনের নিচে পড়ে অজ্ঞাত মহিলার (৩৫) এর মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় একই স্থানে নিহত হন একজন সিএনজি চালক।
অটোচালক রফিকুল ইসলাম জানান, রেললাইনের মাঝে ও দু’পাশেই দোকানপাট গড়ে উঠায় ট্রেন আসলেও দেখা যায় না। ফলে এ দূর্ঘটনার মাত্রা আরো বেড়েই চলেছে। দু’টি রেলপথের মাঝে ও দু’পাশে প্রভাবশালীদের মদদে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। পথচারী মইলাকান্দার আবুল কাসেমের পুত্র ইমাম হোসেন (২৭) জানান, এই গেইট আকাশের দিকে উঠে আছে, এগুলো নিচে নামতে কেউ দেখেনি। রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কয়েক দফা অভিযান হলেও পুনরায় সেখানেই দোকান বসছে বলে জানান, আব্দুল করিম (৫২)। যেসব লেভেলক্রসিং নষ্ট আছে সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে উল্লেখ করে গৌরীপুর রেলওয়ের উধ্বর্তন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ জানান, জনবল সংকট রয়েছে। নতুন নিয়োগে গেইটম্যান প্রদান করা হবে।