| |

জিয়া মুক্তিযোদ্ধা না হলে দেশে মুক্তিযোদ্ধা নেই : নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘বিরূপ’ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জিয়াউর রহমান যদি মুক্তিযোদ্ধা না হন, তাহলে বাংলাদেশে একটা মুক্তিযোদ্ধাও নেই’।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু হাইব্রিড নেতা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলেন। তাহলে কি তাদের নেতা (শেখ মুজিবুর রহমান) না জেনেই পাকিস্তানের চরকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন। বলতে গিয়ে তাঁরা (আওয়ামী লীগ নেতারা) নিজের নেতাকেও যে অসম্মান করছেন, সেটাও তাঁরা বুঝে না।’ তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযোদ্ধা, সেটা তাঁরা বুঝবেন কি করে, তাঁরা তো মাঠেই ছিলেন না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়া। নিজ কানকে তো অবিশ্বাস করতে পারি না। এখন অনেক গল্পই শুনি, কতজন ঘোষণা করেছেন। এটা আবার সংবিধানেরও অংশ। আমরা বেলাল মোহাম্মদ, হান্নান সাহেবের ঘোষণা শুনি নাই। ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় হুকুম করে বদলানো যায় না।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিয়াউর রহমান নিজে লিখে ঘোষণাপত্রটি পড়েছেন। হ্যাঁ, এরপর রাজনীতিকরা তাঁকে (জিয়া) বুঝিয়েছেন, যে আপনি এভাবে বললে বিদ্রোহ বলে মনে হবে, স্বাধীনতা হবে না। এভাবে বললে ভালো হবে। তিনি মেনে নিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য যা দরকার, সব করেছেন। জিয়াকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক অভিহিত করে তিনি বলেন, দলকানা বুদ্ধিজীবীরা তাঁর ভালো কাজগুলোকে লুকিয়ে অন্য কথাগুলো বলে। কারণ সরকার তাঁদের লালন পালন করে।
বর্তমান ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন করে শহীদ জিয়ার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছে বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কোনো আইন করেই শহীদ জিয়ার নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। কারণ দেশের জনগণ সত্যিকারের ইতিহাস জানে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে সরকার আজ গর্ব করে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ প্রথম এনেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান।’
‘শহীদ জিয়া নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে’ উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘এই গবেষণার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ নিয়েছেন। তাই আমি কথা দিচ্ছি তাকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘যে কাজে আমরা হাত দিয়েছি তা সম্পূর্ণ না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। আর এ কাজে কোনো জ্ঞানী লেখককে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। আমাদের তরুণরাই বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রাম ঘুরে প্রামাণ্য চিত্র রচনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াকে আমি রাজনীতিবিদ বলি না। কারণ তিনি একজন গ্রেট রাষ্ট্রনায়ক।’
এর আগে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা পরিষদের প্রথম যাত্রা (শুক্রবার) উপলক্ষে সংগঠনটির সকল নেতাকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দেন এমাজউদ্দীন আহমদ।
‘শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ এতে সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দায়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ড. অলোক গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।