| |

দুর্গাপুরে বালু উত্তোলনের নামে চলছে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। পৌরশহর রয়েছে হুমকীর মুখে, দেখার যেন কেউ নেই।

মোঃ মোহন মিয়া )  নেত্রকোনা সুসঙ্গ মহারাজার স্মৃতি বিজরিত খনিজ সম্পদে ভরপুর উপজেলার নাম দুর্গাপুর। ভারত থেকে প্রবাহিত সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের নামে চলছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পাথর উত্তোলনের কারনে পরিবেশ প্রতিবেশ ব্যাবস্থা বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দৈনিক দিবারাত্র শত, শত বাংলা ড্রেজার দিয়ে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের পাশাপাশি পাথর উত্তোলন করায় বর্তমানে পৌরশহর রয়েছে দারুন হুমকির মূখে। তেরীবাজার ৫ তলা নির্মিত পুরাতন জামে মসজিদ, ব্যাংক, ও বহুতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মিত হয়েছে প্রায় ৩০/৪০ বছর পূর্বে। তখন কোন উন্নত মানের প্রযুক্তি ছিলনা। বর্তমান প্রযুক্তি ও তখনকার প্রযুক্তি ছিল অনেক তফাৎ। কাজেই এই গুলি যে কোন সময় ধ্বসে যেতে পারে বলে জানালেন স্থানীয় প্রবীন ব্যাক্তিরা। নদীর পূর্বপার তেরীবাজার হতে সাধুপাড়া পর্যন্ত  নদীর শাসন বেরীবাধের ব্লক গুলি সরে যাওয়ায় পৌরবাসী রয়েছে উৎকন্ঠার মধ্যে। মেঘালয় রানী সোমেশ্বরী নদীর কালের  বিবর্তনে পাহাড়ী ঝর্না থেকে প্রবাহমান জলবায়ূ ক্রমাগত পরিবর্তন ও অপরিকল্পকিত ভাবে বালূ ও পাথর উত্তোলনের কারনে নদীর স্বাভাবিক গতি ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। পৌর মেয়র হাজ্বী আব্দুস সালাম সংবাদ কে জানান সরকার প্রতি বছর পৌরসভা উন্নয়নে, রাস্তা, ড্রেন নির্মানে লক্ষ, লক্ষ টাকা ব্যায় করছে। কিন্তু দৈনিক শত, শত ভারী ট্রাক লরী, মাত্রারিক্ত মাল বহন করে যাতায়াত করায় পৌর শহরের  উন্নয়ন ভেস্থেগেছে। পাকা রাস্তার উপর কাদা মাটি পরে চলাচলের সর্বসাধারনের জন্য সম্পুর্ন অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এখানে সরকার ঘোষিত ৫ টি বালু মহাল রয়েছে। বিধি সম্মত উপায়ে উত্তোলনের এবং বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে গত ২০/০৫/১৫ তারিখে রিট দায়ের করে (যার নং ৫৩৩২/২০১৫) এর প্রেক্ষিতে মহামান্য উচ্চ আদালত গত ২৯/০৭/১৫ তারিখে রিটের শুনানী পরবর্তিতে সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগে রুলনিশি জারী করেন এবং ৬(ছয়) সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেন। যার ফলে নেত্রকোনা জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত, যার স্বারক নং ১৯২৫, তারিখ ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, উক্ত কার্যক্রম বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট আদেশ প্রতিপালনের নেত্রকোনা এবং দুর্গাপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদেশের নির্দেশক্রমে প্রতিপালনের জন্য আদেশ প্রদান করেন । পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ এর ধারা ৫ এর চ অনুযায়ী উক্ত মামলাটি বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩,১৮(এ),২১,৩১,৩২ এবং ৪২ অনুচ্ছেদ সমূহের আলোকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৫ (চ) পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা ১৯৯৭, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ্যাক্ট ২০০০, মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০, মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (ধারা ৯ ও ১০), মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০১৩ এর অধীনে উক্ত মামলাটি বর্তমানে চলমান অবস্থায় রয়েছে। এমত:বস্থায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন । এর পরও এটি দেখার যেন কেউ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশীদ সংবাদ কে বলেন সরকারী বিধি মোতাবেক বালু ইজারা প্রতি বছর হচ্ছে। পাথর ইজারা নেই। বিষয় টি আমি ক্ষতিয়ে দেখছি। অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজ ইজারাদার মোঃ আলাউদ্দিন আলাল সহ অন্যান্য ইজারাদারদের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তারা সংবাদ কে বলেন আমরা সরকারী নিয়ম মেনেই আমাদের বালু মহাল চালাচ্ছি তবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এর সময় সাথে সময় পাথরও উঠছে। এই গুলো ড্রেজার মালিক গন বেচাকেনা করছে। অপর দিকে  নদীর জলজ উদ্ভিদ প্রানীজ সম্পদ বাংলাড্রেজারের প্রপেলারে আঘাত হেনে ও নির্গত পোড়া মবিল তৈলের  সংমিশ্রনে মূল্যবান মাছ নানিদ, মহাশূল মাছ, লাচু মাছ, বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পৌর শহরে একটি বাইপাস রাস্তা নির্মান, যত্রতত্র বালু ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ  করে পৌর শহর রক্ষা করার জন্য জনপ্রিয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্থক্ষেপ কামনা করছেন দুর্গাপুর বাসী।