| |

চক্রান্তকারীদের জায়গা নেই আওয়ামীলীগে; মতিয়া চৌধুরী

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইলঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় আত্মঘাতি সিদ্বান্ত বন্ধ করতে হবে। আওয়ামীলীগে চক্রান্তকারীদের জায়গা নেই। দলে থেকে যারা দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে চিন্তা-ভাবনা করে তারা দলের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারেনা। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক সময় শোনা যেতো একটি পরিবার না থাকলে নাকি টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগ অচল হয়ে পড়বে-আজ তারা নেই। আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী আজ স্বত:স্ফূর্তভাবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছে, সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ ফারুক আহমদকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর মতো ত্যাগী নেতা দ্বিতীয়টি টাঙ্গাইলে জন্ম নেবেননা। জেলা আওয়ামীলীগের সকল কাজে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমাদের বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। সে দেশ সুন্দর ভাবে গড়ে তুলছেন তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দল ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। আওয়ামীলীগ সন্তাসবাদ, জঙ্গিবাদ পছন্দ করেনা। আর বিএনপি জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে দেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানাতে চায়। দুই বিদেশীকে হত্যা করে বিএনপি-জামায়াত দেশের ভাবমূর্তি বিদেশীদের কাছে খারাপভাবে তুলে ধরতে চায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়।

টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে দুপুর সোয়া ১২ টায় দিনব্যাপি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি।
জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর খান মেনুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম এমপি, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে প্রায় ৫০ হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে।
বিকাল সাড়ে ৫ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা চলছে। যে কোন সময় নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।
দলীয় সূত্র মতে, স্বাধীনতার পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি সম্মেলনেই টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত সিদ্দিকী ও খান পরিবারের আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলত। গত বছর সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে নিউইয়র্কে বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন, দল থেকেও বহিস্কৃত হয়েছেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, প্রভাবশালী খান পরিবারের কর্ণধার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান খান ২০১২ সালে মারা যান। শামসুর রহমান খানের ভাতিজা সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা), পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি) সহ তাঁর চার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রায় এক বছর ধরে আতœগোপণে রয়েছেন। দুটি প্রভাবশালী পরিবারের প্রভাবমুক্ত পরিবেশে সম্মেলন আয়োজন করায় উৎসব আমেজের মধ্য দিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ।