| |

প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ দেশ গড়ার কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বছেলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে । গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই রাসেল, শিশু বয়সেই ঘাতকের বুলেটে যার মৃত্যু হয়েছিল । শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যেন শিশুদের নির্যাতন করতে না পারে সেজন্য যারা শিশুদের ওপর নির্যাতন করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার করা একান্ত প্রয়োজন ছিল। আমরা তা করেছি।
তিনি বলেন, পঁচাত্তরের কালরাতে ঘাতকের বুলেট শিশু রাসেলকেও কেড়ে নেয়। বেঁচে থাকলে আজ রাসেলের বয়স হতো ৫১ বছর।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা শিশুদের ওপর নির্যাতন করে বা শিশুদের হত্যা করে তাদের বিচার আমরা করবোই ইনশাল্লাহ। তারা ছাড়া পাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে যখন দেখি, আমাদের দেশে শিশুদের বাড়িতে নির্যাতন করা হয়। আমি ঠিক জানি না, বুঝি না, এরা কি মানুষ?
তিনি বলেন, একটা ছোট্ট শিশুকে নিয়ে আসে কাজ করাতে। আর তার ওপর অত্যাচার করে, মারধর করে। নিজের যে সন্তান, নিজের যে শিশু, তাদের কথা মনে করে না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা বাচ্চা.. গরিব ঘরে জন্ম হওয়া- সেটাই কি তার অপরাধ? সেও তো মানুষ। তারও তো অধিকার আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে দেখি, একটা ঘটনা ঘটেৃ সে ঘটনা এরপর ব্যাপকহারে ঘটার একটা প্রবণতা। ঠিক জানি না, এটা বাংলাদেশের মানুষের চরিত্রের কোনো একটা দিক কি না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, আমি একটা আহ্বান জানাব দেশবাসীকে, এই ভাবে, এই ধরনের ঘটনা কেউ যেন না ঘটায়। কেউ যেন এই ধরনের মানবতাবিরোধী কাজ না করে।
সমাজের অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুযোগ দেওয়া হলে এই শিশুরাও দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
বক্তব্যের শুরুতেই শেখ হাসিনা তার ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি থেমে থেমে বলেন, আজ রাসেলের জন্মদিন। এই দিনেই আলো করে এসেছিলো, আমার ছোট্ট ভাইটি। আমরা পাঁচ ভাই-বোন। সবচেয়ে ছোট রাসেল। রাসেল আমাদের নয়নের মনি ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, রাসেল এখন বেঁচে থাকলে ৫১ বছর বয়সের হতো। চিন্তা করি, কেমন হতো দেখতে সে..।
ছেলেবেলায় দেখা বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর কথায়।
তিনি বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে শুনেছি, আমার বাবা জেলে। রাসেলের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হয়নি। ..রাসেল যখন দেড় বছরের, ৬৬ সালের মে মাসে আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ..রাসেল কিছু বুঝত না। আধো আধো কথা বলত। বাবাকে খুঁজে বেড়াত।
সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জেলখানায় যেদিন আব্বার সাথে দেখা করতে যেতাম, রাসেল ফিরতেই চাইত না। যেদিন দেখা করে আসতাম, সেদিন রাতে হয়ত ঘুমাতোই না। আবার অনেকদিন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে কান্না জুড়ে দিত। আমি, কামাল, রেহানাসহ সকলে তাকে ঘিরে বসে থাকতাম।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বন্দিদশার কথাও উঠে আসে বঙ্গবন্ধুকন্যার বক্তব্যে। তিনি বলেন, রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল। কাঁদলে জিজ্ঞেস করলে বলত, ‘কাঁদছি না, পানি পড়ছে’।
তিন বলেন, ৭০ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ৭১ এর মার্চ রাসেল প্রথম পিতৃস্নেহ পেল। সব সময় আব্বার পাশে পাশে থাকত। আব্বা যখন বাসায় কাজ করত, তখন মাঝে মাঝে ছুটে যেত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এখনো বুঝে পাই না, কি অপরাধ ছিল?
তিনি বলেন, এই বেঁচে থাকাটা যে কতো কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব নাৃ কি নিষ্ঠুর, নির্মম এই হত্যাকাণ্ড।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার ছোট ভাইটিকে হারিয়েছি। কিন্তু চাই প্রতিটি শিশুর জীবন যেন নিরাপদ হয়। যে অকালেই ঝরে গেছে… ফুল ফোটার আগেই যে শিশু ঘাতকের গুলির আঘাতে ঝরে গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা সবাই আমার কাছে এক একজন ছোট্ট রাসেল।
বিশ্ব সভায় বাংলাদেশের প্রশংসা ধরে রাখতে শিশুদের ‘উপযুক্ত নাগরিক’ হিসাবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে তাগিদ দেন।
পরে তিনি রচনা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মোজাহিদুর রহমান, কে এম শহীদুল্লাহ এবং মুজিবুর রহমান হাওলাদার বক্তব্য দেন।
শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয় আতিকা সাইয়ারা।