| |

সমস্যায় ধুঁকছে নেত্রকোনার ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেদ্র’ ডা. শূন্যতায় সিজার বন্ধ

সৌমিন খেলন. নেত্রকোনা : ভবনের দেওয়ালে জনগণের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট অক্ষরে বড় করে লেখা রয়েছে ‘সেবা নিন ভালো থাকুন’। সেবা ও কল্যাণের বিষয়টা যদিও বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। নেত্রকোনার এমনই এক সেবাকেন্দ্রের নাম ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’। কেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে, নেত্রকোনা পৌর শহরের মোক্তারপাড়া কোর্ট (পুরাতন) রুট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো- গর্ভবতী মহিলা, অনাগত ও নবজাতক শিশুসহ মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নেত্রকোনায় ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে’ ১৯৯০ সালের দিকে ১০ শয্যা নিয়ে সিজার ব্যবস্থা চালু হলেও পরে সম্প্রতি সময়ে এসে ২০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক শূন্যতায় গত এক বছর ধরে কেন্দ্রটিতে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান সকল কার্যক্রম। সাধারণ মানুষের দাবি এ অবস্থায় দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েরা তাদের প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগেও টানা তিন মাস সিজার কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগনের চাপের মুখে পড়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। পরে জেলা পরিষদের সহায়তায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি হাসপাতাল স্বাবলম্বীর ডা. মাকসুদুর রহমানকে দিয়ে সপ্তাহে একদিন করে সিজারিয়ান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিলো। কিছুদিন পার না হতেই তিনিও (চিকিৎসক) কেন্দ্রে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আবারও অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় সিজারিয়ান কার্যক্রম! প্রতিদিন অর্ধশতাধিক গর্ভবর্তী ও প্রসূতি মা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে না পেয়ে উদাস হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেন্দ্রে একজন মাত্র পুরুষ ডাক্তার রয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কেন্দ্রে কোন মহিলা চিকিৎসক নেই। যারফলে অনেক গর্ভবতী মহিলা তাদের সমস্যা ডাক্তারের কাছে খুলে বলতে পারেননা। ভোক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে শহরের মানহীন হাতুঁড়ে চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত প্রাইভেট ক্লিনিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সিজার করান অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চলে যেতে বাধ্য হন। এতে করে রোগী ও তার পরিবারকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। গর্ভবতী স্ত্রীর সেবা নিতে আসা আব্দুর রহিম প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, যাদের টাকা পয়সা আছে তারা ক্লিনিকে গিয়ে সিজার করাতে পারে। কিন্তু গরীবের জন্য তো এই সরকারী হাসপাতাল। এখন এখানেও যদি এ অবস্থা হয় তবে আমাদের মরন ছাড়া কোন গতি আছে কি? কলমাকান্দা উপজেলা থেকে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, সকালে প্রসব ব্যাথায় কাতর স্ত্রীকে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দুপুর সময় মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র এসেছি। এসে জানতে পারলাম, দুপুরের পর কোন ডাক্তার থাকে না, ফলে সকল প্রকার চিকিৎসা বন্ধ। মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রর মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল কাইয়ূম আনোয়ার জানান, সরকারী সময় অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা থাকে। তবে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে চব্বিশ ঘন্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়। এনেস্থেসিয়া না থাকার কারনে শুধু সিজার করা হচ্ছেনা। ডা. কাইয়ূম আরও জানান, সেবা কেন্দ্রে রয়েছে জনবল সংকট। তিনজন আয়ার মধ্যে রয়েছে একজন। সুইপার পদ থাকলেও নেই কোন সুইপার। ভিজিটরের দুটি পদের মধ্যে দুইজন ভিজিটর ছাড়াও ডেপুটেশনে রয়েছে অতিরিক্ত তিনজন। নেত্রকোনা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ আজম বলেন, একজন এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রনালয়ে বারবার লিখিত দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। চিকিৎসক সমস্যা ছাড়াও জনবল সংকটও রয়েছে।