| |

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জে বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে প্রতিনিধি
মোঃ মোহন মিয়া , দুর্গাপুর ( নেত্রকোনা )
পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট্ট গাঁয় “গাছের ছায়ায় লতাপাতায় উদাসীর বনের বায়” রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমাদের নদীগুলি চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তাঁর হাটু জল থাকে” জনপ্রিয় শিল্পী কুদ্দুছ বয়াতীর “ হায়রে নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান,আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”। সেই পুরোনো দিনের গানগুলি এখনও পুরনো মানুষের হৃদয়ে দাগ দিয়ে যায়।অজপাড়া গ্রামগুলিতে চলতো কত না মেলা,কীর্তন,ঘাটু গান,কবি গান,বাঊলা গান,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রাপালা। কার্তিক মাস এলেই চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত চলতো বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে এসব অনুষ্ঠান। এখন সেগুলি প্রায় বিলুপ্তির পথে । আবার বৃষ্টি না হওয়ায় গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা “ব্যাঙ্গের বিয়ে’ সহ জারিসারি গান“ আল্লাহ মেঘ দে,পানি দে ছায়া দেরে তুই” এসব গানগুলি এখন স্মৃতির পাতায় রয়ে গেল। তখনকার দিনে গ্রাম-গঞ্জে ছিল না কোন অশান্তি।বড় বড় বাবুদের বাড়ীতে ছিলো দিনের বেলা যাত্রার মহড়া ও রাতে ছিলো যাত্রাপালা।এবং কতই না ছিল বুড়িভোজনের লক্ষীপূজার লাড়–মুড়ি,খইচিড়া,দুধধই, কত নাকি। সেগুলো আজো মনে পড়ে যায়। ছিল না কোন দাঙ্গা,হাঙ্গামা,ছিনতাই,শিশূ অপরহণ,নারী ধর্ষণের মত কোন ঘঁটনা। আবার গ্রামবাসীর বিনোদনের জন্য চাল,ডাল সংগ্রহ করে করতো খাওয়া দাওয়ার ধুমধাম ব্যবস্থা। সীমান্তে আদিবাসীরা গারো,হাজং জনগোষ্ঠী করেতা তাঁদের প্রাণের “দেউলী উৎসব” দুর্গা,কালী,অসুর ও মহিষাশুর বধ ইত্যাদি। বর্তমানে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিকগুলি আজ মৃত প্রায়। এসবগুলির পাশাপাশি তৃণমুল পর্যায়ের যুবকরা সমাজের আনন্দ দানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু,কাবাডী, দাড়িয়াবান্দা,বৌছুট, গোল্লাছুট, ডাংবাড়ী খেলা,লাটি খেলা,লুডু খেলা,কানা মাছি বৌ বৌ এগুলি গ্রাম গঞ্জে এখন আর দেখা যায় না। অথচ গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব পুরুষের শেখর। ওই সময়ের রাখাল ছেলেরা মাঠে গরু ছড়াতে গিয়ে তাঁড়াও বাশি বাজানো,স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন খেলায় মেতে থাকতো। যেমন: মারবল খেলা,ডাংবাজি,সাইকেলের রিং খেলা,গুলাই মাড়া,লাটুম খেলা ইত্যাদি। বর্তমান প্রজন্মে যুবকরা আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল,টেলিভিশন,ভিডিও গেমস, ফেসবুককে সর্বধায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এবং অভিভাবকরা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘরে বেসই উপভোগ করছেন। গ্রাম-গঞ্জের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিলুপ্তি হয়ে যাওয়ায় ঘরে বসেই অনুভব করছেন সববয়সী অভিভাবকরা। এ ব্যাবস্থা চলতে থকলে হয়তো অচিরেই গ্রাম গঞ্জের খেলা-ধুলা,সাংস্কৃতিক অনুষ্টষ্ঠান গুলি আমাদের সংস্কৃতি থেকে হাড়িয়ে যাবে। আর পরিণত হবে রুপকথার গল্প কাহীনি।ভবিষ্যত প্রজন্মে বিনোদন ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে সামাজিক সচেতনতা,বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ,সামাজিক সংগঠন গুলোর উচিত আবারো পুরনো সংস্কৃতিগুলি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক সচেষ্ট হওয়া।