| |

শেখ হাসিনা প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা করেছেন ঃ ময়মনসিংহ সিএসডিতে নবনির্মিত অফিস উদ্বোধনকালে খাদ্যমন্ত্রী

রঞ্জন মজুমদার শিবু: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনার কারণেই কৃষক ফসলের নায্যমূল্য পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকের জন্য বিভিন্ন প্রনোদনা দিচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে প্রণোদনার সুফল পৌছে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে এবছর পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন হয়েছে। কৃষকের ফসলের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিনি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন দেশে খাদ্য শষ্য মজুদ এই মুহুর্তে প্রায় দশ লাখ মেট্রিক টন। মজুদের পরিমান বাড়াতে মন্ত্রী চলমান সংগ্রহ অভিযান জোরদার করতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির নির্দেশনা দেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মানুষের খাদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অসাধুচক্র খাদ্য শষ্য মজুদের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যের দেশের সকল খাদ্য গুদাম আধুনিকায়ন হচ্ছে। এ সমস্ত খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি, মজুদ এবং মান যাচাই এক জায়গায় বসেই করা সম্ভব হবে। এ জন্য ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সারাদেশে পুরাতন খাদ্য গুদাম ও আনুষাঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ সিএসডিতে নবনির্মিত অফিস ভবন উদ্বোধনকালে গতকাল শুক্রবার সকালে খাদ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতি কৃষক বাচলে দেশে বাচবে। এই নীতির আলোকে পর্যাপ্ত পরিমাণের কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা করেছেন।
সরকারীভাবে ধান চাল ক্রয় সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়, সেই লক্ষে সরকারীভাবে ধান চাল কিনা হচ্ছে। অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকগণের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিজন কৃষক কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ৩ মেঃ টন ধান সরকারী গুদামে বিক্রি করতে পারবে। মন্ত্রী আরো বলেন, যে সমস্ত কৃষক অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, প্রকৃত কৃষক হলে তারাও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ৩ মেঃ টন ধান সরকারী গুদামে বিক্রি করতে পারবেন। ভরা মৌসুমে ধান চালের বাজার বৃদ্ধি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বিগদ বছরের ন্যায় এবারো ধান চালের দাম বাড়তে পারে এমন আশংকায় অবৈধ মজুতদারগণ বেআইনীভাবে ধান চাল কিনে মজুত করছে। অবৈধ লাইসেন্সবিহীন মুজতদারদের কারণে ভরা মৌসুমেও দাম বেড়ে চলছে। এ সব অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব নাজমানারা খানম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামূল হক, পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অর্ধাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম, সিএসডি ব্যবস্থাপক আতকুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে মন্ত্রী সিএসডিতে সাইলো পরিদর্শন করেন। এর আগে মন্ত্রী ময়মনসিংহে পৌছেল ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগ ও বাংলাদেশ খাদ্য পরিদর্শক সমিতি বিভাগ ও জেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।