| |

কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে নগরীর দূর্গাবাড়ি রোডের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন পরে হলেও ময়মনসিংহের দূর্গাবাড়ি রোডের ভাসমান দোকান অপসারিত হয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই রোডের সকল ভাসমান দোকান অপসারন করা হয়।। ময়মনসিংহের অতি ব্যস্ততম ও জনগুরুত্বপূর্ণ রোড দূর্গাবাড়ি। সূর্য কান্ত এসকে হাসপাতাল কেন্দ্রিক দূর্গাবাড়ি রোডে ওষুধ ব্যবসা শুরু হয়। পরবতীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রীক চরপাড়া ও আশপাশ এলাকায় ওষুধ ব্যবসা শুরু হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষজন অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে আসেন ময়মনসিংহ নগরীতে। চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো মানুষের দাবি কমমূল্যে সকল ধরণের ওষুধ বিক্রি ও প্রাপ্তির বিশাল মার্কেট ময়মনসিংহ নগরীর দূর্গাবাড়ি। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওষুধ ব্যবসার বিশ্বস্ত ও প্রসিদ্ধ এলাকা দূর্গাবাড়ি, যা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল ছাড়াও
আশপাশে প্রচার রয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ওষুধ কেনাবেচা হয়। ময়মনসিংহের পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলার ওষুধ ব্যবসায়ীরা দূর্গাবাড়ি থেকে পাইকারি ওষুধ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এছাড়া দূর্গাবাড়িতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও মোবাইল মার্কেট।
পাশাপাশি দুটি মন্দির। সব নিয়ে অতি গুরুত্বপুর্ণ এই রোড। ব্যবসা সফল দূর্গাবাড়িতে প্রতিদিন হাজার মানুষ ওষুধ কেনাবেচা আর ব্যাংকিং কাজ করতে রিক্সা, অটো, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারযোগে আনাগোনা করে। এ সব যানবাহনগুলো রাস্তায় রেখেই মানুষজন তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও ব্যাংকিং লেনদেন করছে। বিশাল মার্কেট ও বহুতল একাধিক ভবন ও ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম চললেও কোন ভবনেই যানবাহন রাখার আন্ডার গ্রাউন বা স্থান নেই। যানবাহনগুলো রাস্তায় থাকায় জন চলাচল মারাত্বকভবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ব্যাংকিং লেনদেন হলেও গ্রাহকগণ ভীর উপরে চলাচল করায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ছে। এরপরও দূর্গবাড়ি রোডের সিংহভাগ ঝুড়ে ভাসমান মার্কেট গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত এই সব ভাসমান দোকান বসে। দোকানগুলোতে ফল, রুটি, বিস্কুট, মাস্কসহ নিত্যপণ্য কেনাবেচা চলে। মানুষজনের উপচে পড়া ভীড় জমে। ফলে দূর্গাবাড়ি রোড দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল প্রায় বন্ধ। আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে। এটা যেন দেখার কেউ
নেই। অবশেষে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে এই রোডের ভাসমান দোকান অপসারণ করেছে। এ রাস্তার পাশের ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও গ্রাহকরা জানান, দীর্ঘদিন পরে হলেও কোতোয়ালী পুলিশ অবৈধ ও ভাসমান দোকানপাঠ অপসারণ করেছেন। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ অবৈধ ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদ সম্পর্কে বলেন, জনগুরুত্বপুর্ণ এই রাস্তাটি জুড়ে অবৈধ দোকানপাঠ গড়ে উঠেছে। মানুষজন তাদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনতে এসে চলাচল পর্যন্ত করতে পারেনা। এছাড়া মোটরসাইকেল, অটো, রিক্সা ও প্রাইভেটকার রাস্তায় রেখেই তাদের প্রয়োজনীতা সারছে। মানুষ এ পাশ থেকে ওপাশ এবং রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারেনা। অপর এক প্রশ্নের আলোকে তিনি বলেন, বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শক্রমে নগরীর অন্যান্য রাস্তায়ও অবৈধ উচ্ছেদ পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। স্থানীয়রা এ সব অবৈধদের উচ্ছেদ পুলিশকে স্বাগত জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি অবৈধরা যেন রাস্তা দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে।