| |

ময়মনসিংহে উৎসাহ-উদ্দীপনায় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত : বৃহস্পতিবার মহানবমী

রঞ্জন মজুমদার শিবু : আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) ২৭ আশ্বিন শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী। সকাল সাড়ে ৬টায় মহানবমী (বিহিত) পূজা শুরু। সকাল ১১ টায় পুস্পাঞ্জলী প্রদান। আজ বুধবার (১২ অক্টোবর) ছিল মহা-অষ্টমী। মন্ডপে মন্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ঢল। মহা-অষ্টমী পূজা শেষে মন্ডপে মন্ডপে অঞ্জলী প্রদান, চন্ডীগ্রন্থ পাঠ, প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহ রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এক বালিকার মধ্যে শুদ্ধাত্মা নারীর রূপ চিন্তা করে সনাতনধর্মীরা তাকে ‘দেবী’ জ্ঞানে পূজা করেন। শ্র্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতে বলা আছে-‘সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক-একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ।’ ৫ থেকে ১২ বছরের বালিকাকে সাজানো হয় কুমারী মাতৃকারূপে। মাতৃকাশক্তির বীজরূপা হচ্ছে বালিকা। পুণ্যার্থীরা কুমারী মায়ের সামনে প্রার্থনায় সমবেত হন। সব নারীতে মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার ল্য। আজ সকালে নির্দিষ্ট কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। ফুলের মালা চন্দন ও নানা অলঙ্কার-প্রসাধন উপাচারে সাজানো হয় কুমারীকে। এবারের কুমারী ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসিন্দা উৎপল সরকারের মেয়ে টিউলিপ সরকার। রামকৃষ্ণ মিশনে পূজার প্রধান পুরোহিত ছিলেন শ্রী সমর রঞ্জন চক্রবর্তী, তন্ত্রধারক ছিলেন স্বামী কল্যানদানন্দ, চন্ডী পাঠ করেন ব্রহ্মচারী অবনী। অঞ্জলী মন্ত্র পাঠ করান রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভক্তিপ্রদা নন্দ মহারাজ।
এদিন সকালে রামকৃষ্ণ মিশনে পূজা মন্ডপ পরিদর্শণ করেন এবং উপস্থিত ভক্তবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু। এসময় সিটি কর্পোরেশনের জনসংজোগ কর্মকর্তা শেখ মহাবুল হোসেন রাজীব, কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্য শাহ কামাল আকন্দ, সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কুমারীপূজা অনুষ্ঠান দেখার জন্য অগনিত ভক্ত দর্শনাথী সমাগম ঘটে রামকৃষ্ণ মিশনে। পুণ্যার্থীরা কুমারী মায়ের সামনে প্রার্থনায় সমবেত হন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাক্স পরে পূজারীগণ অশুর শক্তির বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মায়ের পায়ে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করেন। সকালে অষ্টমী পূজার পর সায়ংকালে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। সন্ধ্যার পর আলোর বন্যা বয়ে চলে প্রতিটি পূজা মন্ডপ প্রাঙ্গণে। বিভিন্ন পূজামন্ডপে ঢাকের তালে তালে আরতি নৃত্য, ধূপের ধোঁয়া, ঘণ্টা ধ্বনি ও কাসরের শব্দে পূজা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে উৎসব মুখর। কোথাও কোথাও ধর্মীয় গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে পূজা উৎসবকে করেছে আরও বেশী নান্দনিক। ময়মনসিংহ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন, অলকা নদী বাংলা মন্ডপ, বাংলাদেশে একমাত্র মহিলাদের পরিচালিত শিববাড়ী পূজা মন্ডপ, আঠারবাড়ী বিল্ডিং, গোলপুকুর পাড়, মৃত্যুঞ্চয় স্কুল রোড, দুর্গাবাড়ী, দশভূজা বাড়ী, বড়কালী বাড়ী, ছোট কালীবাড়ী, ভাতৃসংঘ, কবরখানা রোড, মেছুয়া বাজার, জাদব লাহেড়ী লেন, ডাইলপট্রি, জিলপি পট্রি, হিন্দু ধর্মশালা, স্বদেশী বাজার, পুরাতন পুলিশ কাব, পুরুহিত পাড়া, গঙ্গাদাস গুহ রোড, প্রভু জগৎবন্দু আশ্রম, শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দির, দাসপাড়া, কালী বাড়ী বাইলেন, রঘুনাথজিউর আখরা, ছোট বাজার, বড় বাজার, বিশ্বনাথ মন্দির, কেওয়াটখালী বর্মণপাড়া, নটকঘর লেন, হরিজন পল্লী, এসমস্ত পূজা মন্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে। অষ্টমী পূজা শেষে মন্দিরে মন্দিরে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের বিপুল জনসমাগম লক্ষনীয়। সন্ধ্যায় মন্ডপে মন্ডপে আলোকসজ্জা ও কোন কোন মন্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ময়মনসিংহ জেলায় ৭৮৪টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলায় গত বছরের চেয়ে এবার ১৭ টির বেশী পূজামন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব মুখর বাঙ্গালী মেতে উঠেছে আনন্দ উৎসবে। আগামীকাল (১৫ অক্টোবর) শুক্রবার মহাদশমী ও প্রতিমা নিরঞ্জন।