| |

কিশোর গ্যাং নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানালেন রাষ্ট্রপতি

নজরুল ইসলাম খায়রুল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোর গ্যাং নির্মূলে অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই আহবান জানান।
জেলা শহরের কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কিশোর গ্যাং এ জড়িয়ে পড়ছে ১৪/১৫ বছরের ছেলেরা। তারা স্কুল-কলেজের মেয়েদের ইভটিজিং করে। দিন দিন শহরের পরিবেশ খারাপ করে দিচ্ছে। এদের বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ নিতে হবে। তারা কোথায় যায়, কি করে?। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে কমিটি করে কাজ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইউপি নির্বাচনে গোলমালের বিষয়টি সামনে এসেছে। কিশোরগঞ্জে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে এ ব্যপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জের তিনটি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। নির্বাচনে যেই দাঁড়াক, জনগণ যাকে ভালো মনে করবে তাকেই ভোট দিবে। জনগণ না চাইলে জোর করে ক্ষমতা যাওয়ার দরকার কি? আর জোর করে জনপ্রতিনিধি হয়ে সেবা করার দরকার কী?। এসব করে মানুষের মন জয় করা যায় না।
কিশোরগঞ্জের প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের পরিবেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পৌরসভা এলাকায় যে যার মতো করে পুকুর ভরাট করছে। শহরে আগুন লাগলে সে আগুন নিভানোর মতো পানি পাওয়া যাবে না। নরসুন্দা নদীতেও পানি নাই। নরসুন্দা নদীকে লেকের মতো করে পানি রাখা গেলে বিপদে কাজে লাগানো যাবে। তাছাড়া শহরের রাস্তাগুলো লাগোয়া বিল্ডিং নির্মাণ করছে। বিল্ডিং নির্মাণ আইনকে উপেক্ষা করে যেখানে সেখানে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। অনেকেই রাস্তা দখল করে বিল্ডিং বানাচ্ছে। কিশোরগঞ্জের পরিবেশ ঠিক রাখতে শুধু পৌরসভা পারবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ প্রয়োজনে সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারো একার পক্ষে সে কাজ করা সম্ভব নয়।
জেলাবাসীর উন্নয়নের জন্য আক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার রাষ্ট্রপতির থাকার ৮ বছরেও জেলার ৬ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে এক সঙ্গে বসতে পারলাম না। তারা নিজেদের এলাকার উন্নয়নের কথা বলতো, আমি শুনতাম। তারা কাজ নিয়ে সমস্যার জন্য আমার কাছে আসলে, আমার অবস্থান খেকে যতটুকু করা যায় তা করে দেওয়ার চেষ্টা করা যেতো। তা আর করা গেলো না।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আপনাদের (জনগণের) মাঝে ফিরে এলে আমি সবচেয়ে খুশি হবো। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মীরা আমার আর জনগণের মাঝে পাহাড়ের মতো দেয়াল তুলে রেখেছে। আমি চাইলেও যেকোনো সময় আমার প্রতিবেশীর সাথে দেখা করতে পারি না। এ অবস্থায় আমি কোথায় যাবো! কি অবস্থায় আছি বোঝাতো পারবো না। দেশের অনেকে মনে করে রাষ্ট্রপতি না জানি কতো সুখে আছে, কেবল খায় আর ঘুমায়। বর্তমানে আমি স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারছি না। স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারলে আমার অনেক অনেক ভালো লাগবে।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন-জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিজয় শংকর রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভুপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল, সাইফুল হক মোল্লা দুলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুল প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
এর আগে রাষ্ট্রপতির নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের বিদেশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতিবিনিময় করেন।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ করে জেলা শহরের খরমপট্টিস্থ বাসায় রাত্রিযাপন করেন।
গত শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার বঙ্গ ভবন থেকে সাত দিনের সরকারি সফরে নিজ উপজেলা মিঠামইনে হেলিকপ্টারে করে অবতরণ করেন। এরপর সেখান থেকে গাড়িতে করে তিনি মিঠামইন ডাকবাংলোতে যান। পরে সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
সাত দিনের সরকারি সফরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নিজ উপজেলা মিঠামইনসহ অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলা ভ্রমন শেষে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর ভ্রমন করেন।